আজ শুভ মাঘী পূর্ণিমা ও এর তাৎপর্য

0
216
মাঘী পূর্ণিমা,মাঘী পূর্ণিমা কোন ধর্মের উৎসব,মাঘী পূর্ণিমা ২০২১ কবে,মাঘী পূর্ণিমা কি,মাঘী পূর্ণিমা ২০২২,মাঘী পূর্ণিমা ২০২২ কবে,মাঘী পূর্ণিমা 2020,মাঘী পূর্ণিমার তাৎপর্য,মাঘী পূর্ণিমার মাহাত্ম্য,মাঘী পূর্ণিমা ১৪২৭

আজ শুভ মাঘী পূর্ণিমা। এটি বৌদ্ধদের জন্য অত্যন্ত শোকাবহ একটি ঘটনা। এই পূর্ণিমা তিথিতেই মহাকারুণিক ভগবান বুদ্ধ তার মহাপরিনির্বাণের দিন ঘোষণা করেন ৷ মাঘী পূর্ণিমাকে বৌদ্ধরা বুদ্ধের আয়ু সংস্কারের দিনও বলে থাকেন ৷

মাঘী পূর্ণিমা তাৎপর্য

তথাগত বুদ্ধ ৪৫ বর্ষা অর্থাৎ অন্তিম বর্ষা রাজগৃহের বেণুবনে অধিষ্ঠান করেছিলেন। সেই সময় তিনি বর্ষাব্রতের মধ্যে ভীষণভাবে রোগাক্রান্ত হন। তখন তাঁর বয়স ৮০ বছর। বেণুবনে বর্ষাব্রত পরিসমাপ্ত করে বৈশালীর চাপাল চৈত্যে উপনীত হলেন। এ সময় তিনি চাপালচৈত্যে ধ্যানস্থ হয়ে ভাবলেন তার পরিনির্বাণের সময় সন্নিকটে। তিনি ভাবলেন এখনও তার শিষ্য-প্রশিষ্য, ভিক্ষু-ভিক্ষুণী এবং উপাসক-উপাসিকাগণ সুন্দর জীবনযাপনের যোগ্যতা অর্জন করেনি, এ অবস্থায় তিনি কি পরিনির্বাণ লাভ করতে পারেন?

শুভ মাঘী পূর্ণিমা

তখন তিনি সেবক আনন্দকে সম্বোধন করে বললেন, ‘হে আনন্দ, এই বৈশালী অত্যন্ত মনোরম স্থান। এখানকার উদ্যান, চৈত্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।’ ভগবান ইচ্ছা করলে ঋদ্ধিবলে কল্পকাল অবস্থান করতে পারেন। হে আনন্দ! তথাগতের চার ঋদ্ধিপাদ ভাবিত, বহুলিকৃত, রথগতিসদৃশ, অনর্গল, অভ্যন্তর, বাস্তুভূমিসদৃশ, সুপ্রতিষ্ঠিত, পরিচিত ও সম্যক নিষ্পাদিত হয়েছে। সে জন্য তথাগত ইচ্ছা করলে কল্পকাল অবস্থান করতে পারেন।

কিন্তুু জীবন অনিত্য, সংস্কার অনিত্য। জন্ম হলেই মৃত্যু অনিবার্য। এই বিশ্বে যে যতই শক্তি ও ক্ষমতাশালী হোক না কেন বিত্ত-বৈভব ও সম্পদ-ঐশ্বর্যের অধিকারী হোক না কেন, ধ্যানী-জ্ঞানী, মুনি-ঋষী- মৃত্যু সবাইকে স্পর্শ করে। সবাই মৃত্যুর অধীন। এই মহান সত্যটি বুদ্ধজীবনেও অনিবার্য। হে আনন্দ, অচিরেই তথাগত পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হবেন।

এখন থেকে তিন মাস পর বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতেই আমি পরিনির্বাপিত হবো। অতঃপর বৈশালীর চাপাল চৈত্যে অবস্থানরত ভিক্ষু সংঘ ও বৈশালীবাসী শুভ মাঘী পূর্ণিমার জ্যোত্স্নাময়ী রাতে তথাগতের সমীপে সমবেত হলেন। তিনি ভিক্ষু সংঘের কাছে আপন আয়ুষ্কাল নির্ধারণপূর্বক পরিনির্বাণের দিন-তারিখ ঠিক করলেন, ‘এ মাঘী পূর্ণিমার তিন মাস পর শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে পরিনির্বাণ লাভ করবেন।’

৩৭ প্রকার বোধিপক্ষীয় ধর্মের উপদেশ

অতঃপর তথাগত বুদ্ধ আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে মহাবনে কুঠাগার শালায় গমন করলেন। তথা সমবেত ভিক্ষু সংঘকে তথাগত ৩৭ প্রকার বোধিপক্ষীয় ধর্মের উপদেশ প্রদান করলেন। সংঘের উদ্দেশে এটা তথাগত বুদ্ধের অন্তিম দেশনা, যা বৌদ্ধধর্মের সারমর্ম এতে নিহিত রয়েছে। হে ভিক্ষুগণ!

তোমাদের যে ধর্মসমূহ আমি অভিজ্ঞানে দেশনা করেছি, সে সমুদয় তোমরা উত্তমরূপে আয়ত্ত করে সুন্দররূপে আচরণ করো। সে বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো, তৎসমুদয় সর্বত্র বিস্তার করো যেন এই ব্রহ্মচর্যমূলক ধর্ম স্থায়ী হয়। চিরদিন বিদ্যমান থাকে এবং বহুজনের হিত ও সুখ হয়। দেবমানবের হিত সুখ সম্পাদিত হয়। তিনি বলেন, বয ধম্মা সঙ্খারা অপ্পমাদেন সম্পাদেথ’- অর্থাৎ জগতের সংস্কারসমূহ ক্ষয়শীল, ধ্বংসশীল। অতএব তোমরা অপ্রমাদের সঙ্গে নির্বাণ সাধনা করিও।

আজ মাঘী পূর্ণিমা সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অনিত্য ভাবনা করেন। ইহকাল ও পরকালের সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য ধ্যান সমাধি করেন এবং জীবনকে শীলময়, ভাবনাময় ও বিশুদ্ধিপূর্ণ করার জন্য কঠোর সংকল্পে ব্রত হয় ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here