বডুয়া সমাজ একদিন রোহিংগা হয়ে যাবে

0
226

লিখেছেন: পুলক কান্তি বডুয়া

 প্রথমে একটি মলম শ্লোক দিয়ে শুরু করছি “পল্টুর মাথা ও বল্টুর জোড় কমে গেলে শরীরে সামান্য চুলকানী হলেও তা চুলকাইতে চুলকাইতে একজিমা বিখাউজে পরিনত হয়” ৷ সম্প্রিতি দুটি ছবি ও পোস্ট আমাদের নাডা দিয়েছে ,আহত করেছে । প্রথমটি একজন মহাথেরোর নন্দন কানন বিহার পুন: নির্মাণের প্রতিবাদে প্রেস ক্লাবে মানব বন্ধন ,অপরটি সেই মহাথেরোর গতিবিধি পর্যবেক্ষনে নির্মিতব্য বিহারে মনিটরিং ক্যামেরা লাগানো । এবং একজন ওসি এসে তা তদারকে বিশেষ বাহিনী নিয়োগ । বৌদ্ধ সমাজে মহাথেরো এমন একটি সম্মানীয় পদ যে ,জন্মের পর থেকে এদের পায়ের তলায় ,প্রত্যেক বৌদ্ধ সন্তান যতবার মাথা ঠেকায় ততবার মূত্র ত্যাগ করে নাই । প্রশ্ন হলো ? তাহলে এতো শ্রদ্ধা যার প্রতি তিনি কেন প্রতিবাদী ? যাদের শ্রদ্ধায় অন্ন দান ও অর্থ দান যিনি গ্রহন করেন ,তিনি কেন গ্রহীতা হয়ে মামলা করলেন দাতাদের বিরুদ্ধে । তিনি কেন পুরো বৌদ্ধ দের প্রতিনিধি সংগঠনের বিরুদ্ধে মামলা করে ,স্হিতি জারী করালেন ? ভিক্ষান্নজীবি হয়ে ,যে জীবন উৎসর্গিত নির্বান চেতনায় ,সে জীবন কেন রাজপথে , বিপ্লবী নেতৃত্বে ? কেন রাজ অনুগ্রহে চাকরের জীবন চাকুরীতে ? ভিক্ষুর যে সংগা ,তাতে মহাথেরো মহোদয় চারটি গুরুতর শর্ত ভংগ করেছেন ,১) তিনি মৈত্রী প্রতিস্টায় পুরোপুরি ব্যার্থ হয়েছেন ২) মামলার মাধ্যমে তিনি হিংসা ও দু:খ বীজ বপন করেছেন ? ৩) প্রতিবাদ সংগ্রাম করে তিনি যোদ্ধা জীবন কে প্রতিশ্টা করেছেন । ৪) চাকুরির মাধ্যমে বেতন গ্রহন পূর্বক তিনি রাজ কর্মচারী হিসেবে নিজেকে প্রতিস্টিত করেছেন । এবং সব থেকে বড যে সমস্যাটি তৈরী করেছেন ,তা হলো আদালতের মাধ্যমে বৌদ্ধ সমিতির বিরুদ্ধে মামলা ও স্হিতি জারী করে ,এই সংগঠনের সকল নেতাদের আমৃত্যূ নেতা বানিয়ে দিঁযে ,তরুন প্রজন্ম এ নতুন দের সামাজিক দাঁয় দায়িত্ব গ্রহনের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন । ফলে সমিতি বর্তমানে শেখ হাসিনা ,মহাথেরো কামাল হোসেন আর আমরা আবাল রা খালেদাজিয়া । এক এক জন মরবে ,আমরা ফুল নিয়ে যাবো ,কিন্তু শোকসভায় কোন বক্তৃতার সুযোগ পাবো না , কারন আমাদের তো কোন সাংগঠনিক পদ নাই । এক একজন ১৫ থেকে ২৫ বছর নেতৃত্বে আছেন ,তাই এই সামান্য সমস্যা সমাধানে তাদের বয়স বুদ্ধি কোমরের জোড় এতো দূর্বল যে ,সমাধান করতে তারা পুরোপুরি ব্যার্থ । আবার বুড়া বয়সে জেলে যাবার যেই ভয় ? ফলে মহাথেরো চুলকায় আর নেতাদের একজিমা বিখাউজ হয় । নইলে মানব বন্ধন এর বীপরীতে সামান্য সি সি ক্যামেরা আর ওসি সাহেবরে পাইয়া ,মারেম্মা যেই তৃপ্তির ঢেঁকুর দেখলাম ,তাতে মনে হইলো হার্টে ছয়টা ব্লক প্রত্যেকের । এ আমাদের লজ্জিত করে । হতাশ করে । তারচেয়ে আমরা যদি সমিতির নেতাদের জাঁযগায় থাকতাম তাহলে মানববন্ধনের পরের দিন বিশাল সংঘদান করে মহাথেরোর আয়ূ ,বর্ন সুখ প্রার্থনা করে ,তিনদিন তিন রাত সতিপাঠ্টান এর ব্যাবস্থা করতাম । কারন ওনার কারনেই নেতারা আজীবন নেতা । কোন ভিক্ষু উপাসকদের বিরুদ্ধে কোন লৌকিক পদক্ষেপ রাজপথে ও লৌকিক বিচারালয় আদালতে চাইতে পারেন না , কারন যার কাছে বিচার প্রার্থনা করা হয় সেই জজ কে বলা হয় ধর্মাবতার এবং বিচারপ্রার্থী কে আদালতের বাদীর কাটগডায় হাত জোড় করে দাঁড়াতে হয় ও আর্জী পেশ করতে হয় । এবং এটি সুনির্দিষ্ট ভাবে বৌদ্ধ দর্শন লংঘন ।তাহলে প্রশ্ন আসে যে কারনে আমরা সারাজীবন এতোবার মাথা ঠেকাই যার পায়ের নীচে ,সেই তিনি তার মর্যদা সমুন্নত রাখতে পারেন নি ,কাজেই সমিতির বহু আগেই বৌদ্ধ সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে মহাথেরো কে সাধারন লৌকিক জীবন গ্রহনের আবেদন ও সমাজ কে তাকে নিমন্ত্রন না করার নির্দেশ দেয়া দরকার ও সুপ্রিম সংঘ কাউন্সিলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করাই ছিল নেতৃত্বের কাজ । প্রয়োজনে কয়েকজন জেলে গীয়ে সমাজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করার মতো বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজ করার প্রয়োজন ছিল । তা না করার কারনেই সমিতির বিরুদ্ধে আজ মানব বন্ধন তিনি মুসলিমদের নিয়ে রাজপথে করে ,পুরো জাতির সামনে বৌদ্ধ সম্প্রদায় কে কলংকিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন মহাথেরো মহোদয় । ইতিহাস এতোই নির্মম যে ,আমাদের পিছিয়ে পরা ও জাতিগত সু সংহত নেতৃত্ব তৈরী না হবার দাঁয় থেকে আমরা কেউ মুক্তি পাবো না । আমাদের মনে রাখতে হবে বাপ বুড়া হইলে সন্তানদের পরিবারের দাঁয় দায়িত্ব যে সমাজের পিতারা করতে ব্যার্থ হয় ,সেই পরিবার ও সমাজ একদিন রোহিংগা হয়ে যায় ।
 (ফেইসবুক থেকে সংগ্রহীত, সম্পূর্ণ দ্বায় লেখকের )

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here