বিশ্বাস ভাজন জাতক

0
278
নামসিদ্ধী জাতক
পুরাকালে বােধিসত্ত্ব একবার এক মহা বিত্তশালী শ্রেষ্ঠী ছিলেন।
 মাঠে যখন শস্য জন্মাত তখন তার গােপালক সব গরু
নিয়ে বনে চলে গিয়ে সেইখানে ঘর বেঁধে থেকে গরু চরাত। মাঝে মাঝে দুধ, ঘি প্রভৃতি এনে বােধিসত্ত্বকে দিয়ে যেত।
সেই বনের মাঝে গােপপল্লীর অল্প কিছুদূরে এক সিংহ বাস করত।
 গাভীগুলি এই সিংহের ভয়ে ভীত হয়ে উঠল। তাদের
দুধ কমে যেতে লাগল। গােপালক মাঝে মাঝে দুগ্ধজাত ঘি বােধিসত্ত্বকে দিয়ে যেত।
একদিন গােপালক বােধিসত্ত্বকে ঘি দিতে এলে বােধিসত্ত্ব তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, বৎস, এবার ঘি এত কম কেন?
গােপালকে বলল, এক সিংহের ভয়ে গাভীরা ভীত হয়ে পড়ায় দুধ কম দিচ্ছে। তার ফলে ঘিও কমে গেছে।
বােধিসত্ত্ব তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই সিংহ অন্য কোন প্রাণীর প্রতি অনুরক্ত কিনা জান কি?
গােপালক বলল, জানি মহারাজ, এই সিংহ এক মৃগীর প্রতি অনুরক্ত।
বােধিসত্ত্ব বললেন, এই মৃগীকে কোন উপায়ে ধর।
তারপর তার গায়ে ভাল করে বিষ মাখাও। তাকে বেঁধে রাখবে যাতে
তার গায়ের বিষ যেন ভালভাবে শুকিয়ে যায়। তারপর তাকে ছেড়ে দেবে। সেই মৃগীকে তখন দেখতে পেলেই সিংহ
অনুরাগবশতঃ তার গা লেহন করবে অর্থাৎ চাটবে। তাহলেই সিংহ মারা যাবে।
তার চামড়া ও নখ আমাকে দেবে।
| বােধিসত্ত্বের কথামত সব কাজ করল গােপালক। গােপালক বিষমাখানাে মৃগীকে ছেড়ে দিতেই সিংহ ভালবাসার বশে মৃগীর
গা চাটতে লাগল। তার ফলে সঙ্গে সঙ্গেই সিংহ মারা গেল।
 গােপালক সিংহের মৃতদেহ থেকে চামড়া, নখ প্রভৃতি ছাড়িয়ে
বােধিসত্ত্বের কাছে তা নিয়ে গেল।
বােধিসত্ত্ব তখন একটি গাথার মাধ্যমে উপস্থিত সকলকে উপদেশ দিলেন, অতিরিক্ত স্নেহ ও বিশ্বাস ভাল নয়। তাতে বিপদ
ঘটে। তার সাক্ষী হচ্ছে এই হতভাগ্য সিংহ
সেই থেকে বােধিসত্ত্ব দানাদি পুণ্যকার্য করে জীবন কাটাতে লাগলেন। পরে দেহান্তে লােকান্তরে গমন করলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here