চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা

0
217

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেটে জোবরা গ্রামেই এ প্যাগোডা অবস্থিত। এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ শিক্ষার্থীদের একমাত্র উপাসনালয়। লাল ইট দিয়ে নির্মিত কমপ্লেক্সটিতেই মাখানো রয়েছে সব সৌন্দর্য। ইট বিছানো সড়কের দুপাশে আড্ডায় মত্ত একঝাঁক শিক্ষার্থী।

সড়কের পাশে লাল ইটের কারুকার্যে নির্মিত ভবন দেখে প্রথমে যে কেউ ভুল করতে পারেন পার্বত্য অঞ্চলের কোনো মন্দির ভেবে! আসলে এটি মন্দির নয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পাহাড়িশিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ও প্রার্থনাকেন্দ্র ‘বিশ্বশান্তি প্যাগোডা’। প্যাগোডা কমপ্লেক্সের প্রবেশমুখে রয়েছে একটি প্রার্থনাঘর। এখানে আছে ধ্যানরত বুদ্ধের সাত ফুট উঁচু মূর্তি। এর সামনে আছে সোমপুর বিহারের আদলে ইটের কারুকার্যে তৈরি পাঁচ স্তর সিঁড়ি বিশিষ্ট গোলাকার উঠোন। আর উঠোনের তিন দিক ঘিরে আছে ভিক্ষু ও গোবিন্দ গুণালংকার বৌদ্ধ ছাত্রাবাস। উঠোনের পূর্ব দিকে তাকালেই রাজপুকুরের ঘাট। প্যাগোডার ডান পাশে প্রায় ৭০ ফুট উঁচু টাওয়ার যা থেকে পুরো ক্যাম্পাস দেখা যায়। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসেন সেখানে।

জানা যায়, অসাধারণ কারুকার্যে নির্মিত এই প্যাগোডাটির নির্মাতা বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু প্রয়াত মহামান্য সঙ্ঘরাজ শ্রী জ্যোতিপাল মহাথের। ১৯৮২ সালে এর নির্মাণ শুরু হয় এবং যাত্রা শুরু হয় ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে।গোবিন্দ গুনালংকার বৌদ্ধ ছাত্রাবাসটির নির্মাণে অর্থায়ন করেন ইতালির রেডক্রস, নকশাকার ছিলেন স্থপতি সাইফুল হক দুই তলা বিশিষ্ট প্রত্যেক ব্লকের সামনে রয়েছে লাল ইট দিয়ে থরে থরে সাজানো একটি করে উঠান। সেই উঠানগুলোতে লেখাপড়া থেকে শুরু করে খেলাধুলা সবকিছুই করা যায়। আরও রয়েছে শ্রী জ্যোতিপাল মহাথের’র স্মৃতি জাদুঘর। প্রতিদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের অনেক সৌন্দর্য-পিপাসু দর্শনার্থী ছুটে আসে এই প্যাগোডায়। আর ফিরে যায় প্যাগোডার সৌন্দর্যের মুগ্ধ হয়ে। একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে এর স্থাপত্যের নান্দনিকতা। সেই সাথে গৌতম বুদ্ধের ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’ এই অহিংসার অমৃত বাণী সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এমনটা প্রত্যাশা এখানকার বেড়াতে আসা দর্শনার্থী এবং প্যাগোডা সংশ্লিষ্ট সকলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here