ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলের ৩০ ফুট বুদ্ধ মূর্তি

0
91

বুদ্ধগয়ায় বোধিবৃক্ষের নিচে দীর্ঘ ছয় বছর তপস্যা করে বোধিজ্ঞান লাভ করেছিলেন তরুণ সিদ্ধার্থ। রাজপ্রাসাদের আরাম আয়েশ, মোহ মায়া তাকে আটকাতে পারে নি, সুন্দরী স্ত্রীর ভালোবাসা তাঁর মনকে গলাতে পারে নি, এমনকি বাবা শুদ্ধোধন মা মহামায়ার ভালোবাসাও তার মনকে আচ্ছন্ন করতে পারে নি। মাত্র ২৯ বছরের তরুণ সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ করলেন জগতের চরম সত্যকে জানার জন্য। এই সিদ্ধার্থকে আজ আমরা জানি গৌতম বুদ্ধ হিসেবে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা।
তাঁর প্রচারিত বাণীর মূল অর্থ হচ্ছে অহিংসা পরম ধর্ম। জগতের সকল জীবের প্রতি দয়া, বিশৃঙ্খলা নৈরাজ্য থেকে বিরত থাকতে বলেছেন বুদ্ধ। তার বাণীর সুশীতল ছায়ায় এসে হয়ত আপনার মন প্রশান্তিতে ভরে উঠতে পারে। বুদ্ধ মূর্তির নিচে এসে দাঁড়ালে হয়ত একটু থমকে দাঁড়াবেন। ভাবতে বাধ্য হবেন। কিছুক্ষণ হয়ত জগতের সকল নিষ্ঠুরতা থেকে বুদ্ধ মূর্তিটি আপনাকে দিতে পারে খানিক চিন্তার অবকাশ। তবে এজন্য আপনাকে খুব বেশি দূরে যেতে হবে না একদমই। আমাদের প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলেই দেখা মিলবে বুদ্ধের। হয়ত ভাবছেন, কিভাবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলের গেটের ভেতরে ঢুকলেই এর উপাসনালয়ের উত্তর পশ্চিম দিকে দেখা মিলবে ৩০ ফিট লম্বা বুদ্ধ মূর্তির

এই মূর্তির উচ্চতা ৩০ ফুট, প্রস্থ ১৬ ফুট, মাটির নিচে প্রায় ১৬ ফুট গভীর সম্পূর্ণ পাথর দিয়ে ঢালাই করা আরসিসি কলাম দ্বারা নির্মিত, মূর্তিটি নিরাপদের রাখতে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২৪টি স্টিল পাইপ বসিয়ে চারধারে টানিয়ে দেয়া হয়েছে শিকল। নিচের বেজমেন্টে রয়েছে আরো ২৪টি স্টিলের পাইপ। চারপাশে শক্ত চারটি কংক্রিটের থামের ওপর ছয় ইঞ্চি এমএস পাইপে বসানো হয়েছে ৪০ ফিট উচ্চতার ছাউনি।

অবাক হলেও সত্যি, ২০০৬ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও দীর্ঘ নয় বছর পর জগন্নাথ হলে বুদ্ধ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি প্রফেসর ডক্টর সুকোমল বড়ুয়ার উদ্যোগে এই বুদ্ধ মূর্তিটি তৈরির স্বপ্ন দেখা হয়। ৩০ ফিট দীর্ঘ এই বুদ্ধ মূর্তিটির নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করেছেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক স্বপন বড়ুয়া চৌধুরী। ৫৩ বছর বয়স্ক শিল্পী মং খি মং দায়িত্ব নেন এই মূর্তিটি তৈরি করবার। সাথে সাহায্য করেন ড. শামীম শিকদার, অধ্যাপক হামিদুর রহমান, অধ্যাপক রোকেয়া সুলতানা ও আর্কিটেক্ট প্রদীপ বড়ুয়াকে। মং মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, মিজোরামে বেশ কয়েকটি বুদ্ধ মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন। মূর্তিটি তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল দীর্ঘ ন’বছর পর আলোর দেখা পায় জগন্নাথ হলের বুদ্ধ মূর্তিটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here