Skip to main content

প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের দাবি বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট'স অ্যাসোসিয়েশএর

কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে প্রায় চারশ বছরের পুরনো রাখাইন পল্লীসহ তিনটি বৌদ্ধ বিহার ও তিনটি শ্মশান রক্ষায় চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত উপকূলীয় সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটির নকশা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট'স অ্যাসোসিয়েশন সহ কয়েকটি সংগঠন। নকশা পরিবর্তন করে বেড়িবাঁধটি পশ্চিম দিকে সরকারি পরিত্যক্ত জমিতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে তারা গত ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ইং তারিখ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক উথুইংয়াই এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ এর সদস্য রূপায়ণ বড়ুয়া, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট'স কাউন্সিল এর সভাপতি উথেনচিং মারমা , পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণ চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যয় নাফাক, বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশন এর সভাপতি নিজ্য রাখাইন, সাধারণ সম্পাদক জনাইং রাখাইন, ক্রীড়া সম্পাদক টিংটিংউ, সদস্য নীলা ওয়াং, বাংলাদেশ রাখাইন স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশন এর চৌফলদন্ডি শাখার সভাপতি ক্যছেনম্রীন, ঢাকা শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্যছেংওয়ান প্রমূখ। মানবন্ধনে বক্তরা বলেন, কক্সবাজার জেলার ৬ নম্বর চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে চারশ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখাইন সম্প্রদায় বসবাস করে আসছে। আদিকাল থেকে পেশায় মৎস্যজীবী হওয়ায় রাখাইনদের বসবাস বর্তমান উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায়। একই এলাকায় মুসলিম, হিন্দু, খিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। রাখাইন পল্লী ছাড়াও এই এলাকায় চারটি বৌদ্ধ মন্দির ও তিনটি শ্মশান রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর উদ্ধৃত করে মানববন্ধনে জানানো হয়, টেকসই উন্নয়ন ও উপকূল সুরক্ষার জন্য সরকার প্রণীত একশ বছরের ‘ডেল্টা প্ল্যানে’র আওতায় চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বেড়িবাঁধ বা সুপার ডাইক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীন অংশেই রাখাইন পল্লীর শতাধিক বসতবাড়ি, তিনটি বৌদ্ধ মন্দির ও তিনটি শ্মশানের অবস্থান। এগুলো উচ্ছেদের জন্য এরই মধ্যে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট তালিকা ও জরিপ প্রণয়ন করেছে। বক্তারা বলেন, এর আগে রাখাইনদের বসতবাড়িসহ বৌদ্ধ মন্দির ও শ্মশান রক্ষায় গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই প্রকল্প চলমান থাকায় রাখাইন জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ মন্দির ও শ্মশানগুলোও বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল। এই পরিস্থিতিতে উক্ত প্রকল্পের আওতায় চলমান উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে প্রকল্পটি সুরক্ষিত বেড়িবাঁধের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড মালিকানাধীন সরকারি পরিত্যক্ত জমিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানান্তরের দাবি জানায়। এতে করে প্রায় তিনশ রাখাইন পরিবারকে বাস্তুচ্যুত হতে হবে না এবং রাখাইন জনগোষ্ঠী বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

Comments

Popular posts from this blog

পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া হলো না অ্যানি বডুয়ার

পিএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে বাসা থেকে বের হন তিনি। পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে সহকর্মীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ দেয়ালের একটি অংশ এসে পড়ে তার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পটিয়ার সরকারি মেহেরআটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়ার (৪০)। রোববার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টায় কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে নিহতদের একজন তিনি। স্বামী পলাশ বড়ুয়া ও দুই ছেলে অভিষেক-অভিজিৎকে নিয়ে পাথরঘাটায় ভাড়া বাসায় থাকতেন অ্যানি বড়ুয়া। পলাশ বড়ুয়া পটিয়ার শিকলবাহায় পিডিবির প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। বড় ছেলে অভিষেক এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ছেলে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। পলাশ বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকের পিএসসি পরীক্ষার প্রথম ডিউটিতে তাকে শাড়িও ঠিক করে দিয়েছি। পছন্দের শাড়ি পড়ে অ্যানি ডিউটিতে যাচ্ছিল। ও আগে বের হয়, আমি পরে বের হচ্ছিলাম। এরমধ্যে শুনি এ দুর্ঘটনা। আমাদের সাজানো গোছানো সংসার এক নিমিষেই শেষ। আমি ছেলেদের কি জবাব দেবো? অ্যানির শ্বশুর বাড়ি পটিয়ায়, বাবার বাড়ি কক্সবাজারের রামুতে। তার ভাই অনিক বড়ুয়া বলেন, আমার দুই ভাগ্নের কি হবে? তাদের কান্না থামছে না। শ…

সীতাকুন্ডের প্রথম নারী পুলিশ সুপার অনিন্দিতা বডুয়া

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের কৃতি সন্তান প্রয়াত সরোজ কান্তি ও প্রয়াতা প্রতিমা বড়ুয়ার কণ্যা অনিন্দিতা বড়ুয়া সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মক্ষত্রে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। তার পিতা ব্যাংকার ও মাতা স্বনামধন্য অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। 
বুয়েট হতে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে ২৪তম বিসিএসে ০২/০৭/২০০৫ সালে এএসপি হিসাবে যোগদান করেছেন।ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাষ্টার ৯ম এপিবিএন ২০১১'সালে ছিলেন। ২০১৩ সালে এডিসি বন্দর চট্টগ্রাম,২০১৪ সাল হতে এডিসি সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার এ অতি সুনামের সহিত কর্মরত রয়েছেন।      
 চাকরিজীবনে দেশে সফলতার পাশাপাশি জাতিসংঘ মিশনে যান ২০১০ সালে, ইতালিতে ট্রেনিং এ যান ২০১৮ সালে। উল্লেখ্য এসপি অনিন্দিতা বড়ুয়া সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের সন্তান,ব্যক্তি জীবনে স্বামী রাজেশ তালুকদার সাথে রয়েছে একমাত্র পুত্র সন্তান রিসহাব বড়ুয়া তালুকদার।     
তারা তিন বোন বিসিএস ক্যাডার। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ও দারুণ জনপ্রিয় এই নারী এসপি।

পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে নিহত ৭ ৷ এর মধ্যে একজন এ্যানি বডুয়া

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জন মারা গেছেন। দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ২০ জন। রোববার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, দুইজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে এ্যানি বডুয়া নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি পটিয়ার এক স্কুলের শিক্ষক বলে পরিচয় পাওয়া গেছে ৷ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস চারটি ইউনিট কাজ করছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।