Skip to main content

চালু হল বৌদ্ধ ভিক্ষুর উদ্যোগে নির্মিত সেতু


প্রশাসনের কাছে বছরের পর বছর ধরে সেতুর দাবি জানিয়েও কাজ হয়নি। তাই এক বছর আগে দানের টাকায় সেতু বানানো শুরু করেছিলেন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু। ‘স্বপ্নের’ সেই সেতু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে অবশেষে। এই এক সেতুতেই হাসি ফুটেছে দুই গ্রামের ১৫ হাজার মানুষের মুখে। জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তি উদ্যোগে সেতু নির্মাণের এই
 নজির সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের রাউজানে।
গত বুধবার রাউজানে বৌদ্ধ ভিক্ষু পঞ্ঞ চক্ক মহাথেরের উদ্যোগে নির্মিত ১ হাজার ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রস্থের সেতুটির ওপর দিয়ে মানুষজন চলাচল শুরু করেছে।
স্থানীয় মানুষজন বলছেন, সেতু হওয়ায় মানুষজনের চলাচলের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন কৃষকেরা। তাঁরা এখন সহজে কৃষিকাজে ব্যবহৃত মালামাল, সবজি ও ধান আনা–নেওয়া করতে পারবেন।
সেতুটি যুক্ত করেছে উপজেলার পাহাড়তলী ও কদলপুর ইউনিয়নকে। গত বছরের ৩১ মার্চ প্রথম আলোতে ‘দানের টাকায় সেতু বানাচ্ছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি সেতুর কাজে সহায়তায় এগিয়ে আসেন।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির ওপর দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করছে। তবে সেতুটির দুপাশে বেষ্টনী নির্মাণের কাজ বাকি আছে। ২০ লাখ টাকার ব্যবস্থা হলে বেষ্টনীটি হয়ে যাবে বলে জানান এই ভিক্ষু। স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে সেতু দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন কদলপুর গ্রামের অনামিকা বড়ুয়া। তিনি বলেন, আগে চার কিলোমিটার পথ ঘুরে আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে হতো। সেতু হওয়ায় এখন আধা কিলোমিটার হেঁটেই সেখানে যেতে পারছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের মধ্যে দূরত্ব ৩০০ মিটার। ইউনিয়ন দুটিকে এত দিন পৃথক করে রেখেছিল বিস্তীর্ণ ধানখেত আর ডোবা, যা বছরের বেশির ভাগ সময় ডুবে থাকে পানিতে। ফলে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে যেতে ১৫ হাজার বাসিন্দাকে ঘুরতে হতো প্রায় চার কিলোমিটার পথ। সেতু নির্মাণের জন্য বছরের পর বছর থেকে ধরনা দিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি কোনো দপ্তর বা জনপ্রতিনিধি কেউই সাড়া দেননি। স্থানীয় মানুষের কষ্ট লাঘবে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ চালানোর উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন খৈয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় ও খৈয়াখালী ধম্মা বিজয়া রামবিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পঞ্ঞ চক্ক মহাথের। এই সেতু বানাতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। সেতু নির্মাণে ১২০ শ্রমিকের পাশাপাশি নিয়মিত প্রায় ১০০ যুবক-তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন।
 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পঞ্ঞ চক্ক মহাথের জানালেন, সেতু নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া না গেলেও স্থানীয় লোকজন অর্থসহায়তা দিয়েছেন। তবে কারও কাছ থেকে চেয়ে টাকা নেওয়া হয়নি। স্বেচ্ছায় যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের টাকা নেওয়া হয়েছে। সেতুর নাম দেওয়া হয়েছে খৈয়াখালী-কদলপুর সংযোগ সেতু।
পঞ্ঞ চক্ক মহাথের বলেন, কদলপুর থেকে পাহাড়তলী ইউনিয়নের খৈয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় ও খৈয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগে শিক্ষার্থীদের। সেতু চালু হওয়ায় লাগবে মোটে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
 বিনা পারিশ্রমিকে সেতুটির নকশা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী উৎপল বড়ুয়া। বুধবার বিকেলে সেতু এলাকায় গিয়ে পাওয়া গেল তাঁকেও। তিনি বলেন, একটি ভালো কাজের অংশ হতে পেরেছেন, এ জন্য গর্বিত।
স্বেচ্ছায় শ্রম দেওয়া কলেজপড়ুয়া তরুণ নিশান চৌধুরী বলেন, ভালো কাজে শ্রম দিতে পেরে আনন্দিত।  পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রো, ব্যক্তি উদ্যোগে এত দীর্ঘ একটি সেতু বানানো কঠিন কাজ। এটি দেশের জন্য বিরল কর্মযজ্ঞ।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, এই সেতু নির্মাণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি এ ধরনের উদ্যোগ অন্যান্য স্থানেও সৃষ্টি হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

খবর: প্রথম আলো
এস এম ইউসুফ উদ্দিন, রাউজান, চট্টগ্রাম   

Comments

Popular posts from this blog

চান্দগাঁও সার্বজনীন শাক্যমুনি বিহারে ৬ দিন ব্যাপী “পট্ঠান” পাঠ ও গণপ্রব্রজ্যা

ঐতিহ্যবাহী চান্দগাঁও সার্বজনীন শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে ২২শে ফেব্রুয়ারী রোজ শনিবার  থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি রোজ বৃহস্পতিবার ২০২০ ইংরেজী পর্যন্ত দিবা-রাত্রি ৬ (ছয়) দিনব্যাপী  “তথাগত বুদ্ধ” ভাষিত অভিধর্ম পিটকের “পট্ঠান” পাঠ ও গনপ্রব্রজ্যা অনুষ্ঠিত হবে।
২২শে ফেব্রুয়ারী শনিবার গনপ্রব্রজ্যা, ভৈষজ্য সংঘদান ও পট্ঠানপাঠ আরম্ভ হয়ে ২৭শে ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার অষ্ঠপরুস্কারসহ সংঘদানের মাধ্যমে পট্ঠন পাঠ সমাপ্ত হবে।
পট্ঠান পাঠ পরিচালনা করবেন বহু ত্রিপিটক গ্রন্থের অনুবাদক, ধ্যানাচার্য ও ধুতাঙ্গধারী, উত্তর জলদী শ্মশানভূমি প্রজ্ঞাদর্শন মেডিটেশন সেন্টার এর মহাপরিচালক ভদন্ত জ্ঞানেন্দ্রিয় স্থবির।

সহ- উপসংঘনায়ক আনন্দ মিত্র মহাথের "চন্দ্রজ্যোতি শান্তি স্বর্ণপদক" মনোনয়ন লাভ

উজ্বল কান্তি বড়ুয়াঃ বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার ২২তম সংঘনায়ক, ঐতিহ্যবাহী খৈয়াখালী রত্নাঙ্কুর বিহারের প্রতিষ্ঠাতা, ৬ষ্ঠ সংগীতিকারক মহামান্য সংঘনায়ক চন্দ্রজ্যোতি মহাথের মহোদয়ের ৫৪তম প্রয়াণ বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আজ খৈয়াখালী রত্নাঙ্কুর বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সভায় বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সহ-উপসংঘনায়ক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্মীলনীর আজীবন সভাপতি, পূর্বগুজরা সার্বজনীন মৈত্রী বিহারের নবরূপাকার বিহারাধ্যাক্ষ সহ- উপসংঘনায়ক আনন্দমিত্র মহাথের মহোদয়কে সর্বসম্মতিক্রমে ২০২০ সালের জন্য "চন্দ্রজ্যোতি শান্তি স্বর্ণপদক" মনোনীত করেন। 
উল্লেখ্য আগামী ১ মে ২০২০ খ্রি., শুক্রবার সংঘনায়ক চন্দ্রজ্যোতি মহাথের'র ৫৪তম প্রয়াণ দিবসে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর পরিবেশে নানা অনুষ্ঠান মালার মধ্য দিয়ে সহ-উপসংঘনায়ক আনন্দ মিত্র মহাথের'কে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হবে।

তুলিপ এক্কা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত

রংপুর হিরোয়োশি জে এস ফুকুই বৌদ্ধ বিহার এর কেন্দ্র শিক্ষক তুলিপ এক্কা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর অধীনে উত্তরঙ্গের ৫টি প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প (২য় পর্যায়) মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মর্যাদা অর্জন করছেন। 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার  প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প(২য়) পর্যায় বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আওতাধীন, উত্তরবঙ্গের (রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট ও নওগাঁ) জেলা তে মোট ০৫ টি শিক্ষা কেন্দ্র চালু হয় গত বছর। 
গত ২০শে জানুয়ারি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এর নাম ঘোষণা করা হয়। তুলিপ এক্কা রংপুর হিরোয়োশি জে এস ফুকুই বৌদ্ধ বিহার এর কেন্দ্র শিক্ষক এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নিউজ পোর্টাল বুড্ডিস্ট নিউজের রংপুর প্রতিনিধি।