চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে সান্ধ্যকালীন বিদর্শন ভাবনারত বয়োবৃদ্ধদের অনন্য দৃষ্টান্ত

0
222

ওরা সবাই বয়োবৃদ্ধ, একসময় তাদের আয়ে চলতো সংসার।  বতর্মানে তাদের কোনরকম আয় নেই। পরিবারের সন্তান সন্ততি তথা শুভাকাঙ্খীকেদের উপর ভর করেই তাদের জীবন চলে। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও ধর্মকর্ম করেই দিন পার করে। প্রতিনিয়ত  দুঃখকে আড়াল করে আনন্দে সময় কাটাতে চেষ্টা করে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের দ্বিতীয় তলায় নির্বানের পথ পাড়ি দেয়ার লক্ষ্যে সান্ধ্যাকালীন বিদর্শণ ভাবনা করতে জড়ো হন। তাদের একেকজনের বয়স শত বছর ছুঁই ছুঁই। তাদের ধর্মগুরু চার বছর পর পার করবে শতবছর। নাম ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির। তিনি এই বিহারে অধ্যক্ষ। ধর্মের তত্ত্ববাণী তুলে ধরতে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন। সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের সাহায্যার্থে তারাই বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনকে তুলে দিলেন ১লক্ষ টাকা।

প্রায় শতাধিক বিদর্শণ ভাবনাকারীরা মাসে দশ টাকা করে ফান্ড জমিয়ে মানুষকে সাহায্য করার জন্য বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০৩ সালে বোধিসত্ত্ব বড়ুয়া, বিভুতি রঞ্জন বড়ুয়া, অমল বিকাশ বড়ুয়া সহ মাত্র ৫ জনদিয়ে ভাবনায় যুক্ত হওয়া দলের বতর্মান সদস্য সংখ্যা ১১৫ জন।

৫ মার্চ ২০২০ তারা সঞ্চিত টাকা থেকে সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা তহবিলে ১লক্ষ টাকা অনুদান তুলেদেন সংগঠনের কর্মকর্তাদের হাতে। নেতৃবৃন্দদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মৃগাংক প্রসাদ বড়ুয়া, সিদ্ধার্থ বড়ুয়া এফসিএ, তুষার কান্তি বড়ুয়া, আশীষ কুমার বড়ুয়া ও বিপ্লব বড়ুয়া। উল্লেখ্য যে, এই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা নবআঙ্গিকে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার নির্মাণে সহযোগি হয়ে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দান করেছেন। বছরব্যাপী অধ্যক্ষ ভান্তের জন্মোৎসব পালন, অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান, রোগাগ্রস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা অব্যহত থাকে। আর্তমানবতার জন্য এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে সান্ধ্যকালীন বিদর্শণ ভাবনায় অংশগ্রহণকারী সকল মা-বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। তাদের প্রত্যেকের নিরোগ দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here