Skip to main content

সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মহামান্য সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাথেরর মহাপ্রয়াণ

"অনিচ্চা বত সংখারা - সংস্কার মাত্রই অনিত্য" 

বাংলাদেশে বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান  বৌদ্ধ পন্ডিত , বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার মহামান্য সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাথের মহোদয় আজ রাত ১২:৫৮ মিনিটে নগরীর রয়েল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহাপ্রয়ান করেছেন।
তিনি গত ১জানুয়ারি থেকে রয়েল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।  
 চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ঊনাইনপূরা গ্রামের সদ্ধর্মপ্রাণ উপাসক মহীরাজ বড়ুয়ার ঔরসে পুণ্যবতী উপাসিকা সুরবালা (বড়ুয়া) দেবীর কোল আলোকিত করে ১৯২৮ সালের ১৭ জুন রবিবার ভূমিষ্ট হয়েছিল এক নবজাতক পুত্র সন্তান। শুভক্ষণে তার নাম রাখা হয় রসধর বড়ুয়া। কালের ধারাবাহিকতায় রসধর বড় হতে থাকে। কিন্তু কিশোর বয়সে হঠাৎ জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অনেক চিকিৎসার পরও সুস্থ না হলে একপর্যায়ে মা বুদ্ধের প্রতিবিম্বের সামনে একাগ্রমনে ছেলের রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনায় ইচ্ছে পোষণ করলেন যে, ছেলে রসধর রোগ থেকে মুক্তি পেলে শাসন সদ্ধর্মে দান করবেন। অতঃপর রসধর সুস্থ হলে ১৪ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে পবিত্র আষাঢ়ী পূর্ণিমায় জ্ঞানতাপস আর্যশ্রাবক ভদন্ত জ্ঞানীশ্বর মহাথেরো মহোদয়ের নিকট প্রব্রজ্যা ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করে ধর্মসেন শ্রামণ নাম ধারণ করেন। গুরুর স্বানিধ্যে শ্রামণ ধর্মসেন ধর্মীয় শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। অতঃপর ১৯৪৭ সালে ঊনাইনপূরা লংকারামে (বিহার) দানোত্তম কঠিন চীরব দানানুষ্ঠানে আচারিয়া পূর্ণাচার সীমালয়ে জ্ঞানীশ্বর মহাথেরোর উপাধ্যায়ত্বে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপসম্পদা ( ভিক্ষু ) গ্রহণ করেন। ভিক্ষুত্ব জীবনে বুদ্ধের সদ্ধর্ম জানার লক্ষ্যে ধর্ম-বিনয় সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান অর্জনে নিজেকে নিয়োজিত রেখে ১৯৫৩ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বৌদ্ধের পবিত্র ধর্মীয় গন্থ ত্রিপিটকের সর্বোচ্চ উপাধি ‘ত্রিপিটক বিশারদ’ ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে তাঁর অর্জিত জ্ঞান সমাজ ও সদ্ধর্মে প্রচার ও প্রসারিত করার মানসে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মদেশনার মাধ্যমে বিকশিত করেছেন। মহামান্য দ্বাদশ সংঘরাজের লিখিত পুস্তক/গ্রন্থ গুলো সমূহ – ত্রিরত্ন বন্দনা ( ১৯৬২ ), বিনয় সংগ্রহ ( ১৯৭৮ ), বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা ( ১৯৮১ ), ত্রি-মহাজীবন (১৯৯০ ) উল্লেখযোগ্য। মহামান্য দ্বাদশ সংঘরাজ কর্ম জীবনে বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সভাপতি সহ বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। একাদশ সংঘরাজ ভদন্ত শাসনশ্রী মহাথেরো মহোদয়ের প্রয়াণের পর ২০০৪ সালে ২৯ শে জানুয়ারি বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার সাধারণ সভার ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিদের সর্বসম্মতত্রুমে উপ-সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মসেন মহাথেরো মহোদয়কে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু “সংঘরাজ” পদে অভিসিক্ত করেন। তখন থেকে এখনো তিনি দ্বাদশ সংঘরাজ হিসেবে তাঁর সাধনপীঠ চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ঊনাইনপূরা লংকারামে অবস্থান করে পুরো বৌদ্ধ জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। মহামান্য দ্বাদশ সংঘরাজ ভদন্ত ধর্মসেন মহাথেরো দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশি বৌদ্ধদের অবস্থান সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরেছেন। তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও ধর্মীয় গুনাবলীর স্বীকৃতি স্বরূপ ‘অগ্গমহাসদ্ধর্মজ্যোতিকাধ্বজক'( মিয়ানমার ), ত্রিপিটক সাহিত্য চক্রবর্তী ( শ্রীলংকা ), ওয়ার্ল্ড পিস মডেল ( থাইল্যান্ড ), সুপ্রিম বুড্ডিস্ট লিডার ( জাপান ), এ্যাওয়ার্ড সহ ‘অতীশ দীপংকর ও বিশুদ্ধানন্দ’ স্বর্ণপদক অর্জন করেন।  

তাঁর প্রয়াণে  বুড্ডিস্ট নিউজের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং আমাদের অর্জিত সকল পূর্ণরাশি দান করছি।

Comments

Popular posts from this blog

পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া হলো না অ্যানি বডুয়ার

পিএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে বাসা থেকে বের হন তিনি। পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে সহকর্মীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ দেয়ালের একটি অংশ এসে পড়ে তার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পটিয়ার সরকারি মেহেরআটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়ার (৪০)। রোববার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টায় কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে নিহতদের একজন তিনি। স্বামী পলাশ বড়ুয়া ও দুই ছেলে অভিষেক-অভিজিৎকে নিয়ে পাথরঘাটায় ভাড়া বাসায় থাকতেন অ্যানি বড়ুয়া। পলাশ বড়ুয়া পটিয়ার শিকলবাহায় পিডিবির প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। বড় ছেলে অভিষেক এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ছেলে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। পলাশ বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকের পিএসসি পরীক্ষার প্রথম ডিউটিতে তাকে শাড়িও ঠিক করে দিয়েছি। পছন্দের শাড়ি পড়ে অ্যানি ডিউটিতে যাচ্ছিল। ও আগে বের হয়, আমি পরে বের হচ্ছিলাম। এরমধ্যে শুনি এ দুর্ঘটনা। আমাদের সাজানো গোছানো সংসার এক নিমিষেই শেষ। আমি ছেলেদের কি জবাব দেবো? অ্যানির শ্বশুর বাড়ি পটিয়ায়, বাবার বাড়ি কক্সবাজারের রামুতে। তার ভাই অনিক বড়ুয়া বলেন, আমার দুই ভাগ্নের কি হবে? তাদের কান্না থামছে না। শ…

সীতাকুন্ডের প্রথম নারী পুলিশ সুপার অনিন্দিতা বডুয়া

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের কৃতি সন্তান প্রয়াত সরোজ কান্তি ও প্রয়াতা প্রতিমা বড়ুয়ার কণ্যা অনিন্দিতা বড়ুয়া সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মক্ষত্রে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। তার পিতা ব্যাংকার ও মাতা স্বনামধন্য অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। 
বুয়েট হতে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে ২৪তম বিসিএসে ০২/০৭/২০০৫ সালে এএসপি হিসাবে যোগদান করেছেন।ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাষ্টার ৯ম এপিবিএন ২০১১'সালে ছিলেন। ২০১৩ সালে এডিসি বন্দর চট্টগ্রাম,২০১৪ সাল হতে এডিসি সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার এ অতি সুনামের সহিত কর্মরত রয়েছেন।      
 চাকরিজীবনে দেশে সফলতার পাশাপাশি জাতিসংঘ মিশনে যান ২০১০ সালে, ইতালিতে ট্রেনিং এ যান ২০১৮ সালে। উল্লেখ্য এসপি অনিন্দিতা বড়ুয়া সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের সন্তান,ব্যক্তি জীবনে স্বামী রাজেশ তালুকদার সাথে রয়েছে একমাত্র পুত্র সন্তান রিসহাব বড়ুয়া তালুকদার।     
তারা তিন বোন বিসিএস ক্যাডার। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ও দারুণ জনপ্রিয় এই নারী এসপি।

পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে নিহত ৭ ৷ এর মধ্যে একজন এ্যানি বডুয়া

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জন মারা গেছেন। দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ২০ জন। রোববার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, দুইজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে এ্যানি বডুয়া নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি পটিয়ার এক স্কুলের শিক্ষক বলে পরিচয় পাওয়া গেছে ৷ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস চারটি ইউনিট কাজ করছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।