Skip to main content

চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে সান্ধ্যকালীন বিদর্শন ভাবনারত বয়োবৃদ্ধদের অনন্য দৃষ্টান্ত

ওরা সবাই বয়োবৃদ্ধ, একসময় তাদের আয়ে চলতো সংসার।  বতর্মানে তাদের কোনরকম আয় নেই। পরিবারের সন্তান সন্ততি তথা শুভাকাঙ্খীকেদের উপর ভর করেই তাদের জীবন চলে। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও ধর্মকর্ম করেই দিন পার করে। প্রতিনিয়ত  দুঃখকে আড়াল করে আনন্দে সময় কাটাতে চেষ্টা করে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারের দ্বিতীয় তলায় নির্বানের পথ পাড়ি দেয়ার লক্ষ্যে সান্ধ্যাকালীন বিদর্শণ ভাবনা করতে জড়ো হন। তাদের একেকজনের বয়স শত বছর ছুঁই ছুঁই। তাদের ধর্মগুরু চার বছর পর পার করবে শতবছর। নাম ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির। তিনি এই বিহারে অধ্যক্ষ। ধর্মের তত্ত্ববাণী তুলে ধরতে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন। সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের সাহায্যার্থে তারাই বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনকে তুলে দিলেন ১লক্ষ টাকা৷

প্রায় শতাধিক বিদর্শণ ভাবনাকারীরা মাসে দশ টাকা করে ফান্ড জমিয়ে মানুষকে সাহায্য করার জন্য বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০০৩ সালে বোধিসত্ত্ব বড়ুয়া, বিভুতি রঞ্জন বড়ুয়া, অমল বিকাশ বড়ুয়া সহ মাত্র ৫ জনদিয়ে ভাবনায় যুক্ত হওয়া দলের বতর্মান সদস্য সংখ্যা ১১৫ জন।
৫ মার্চ ২০২০ তারা সঞ্চিত টাকা থেকে সুবিধা বঞ্চিত রোগীদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা তহবিলে ১লক্ষ টাকা অনুদান তুলেদেন সংগঠনের কর্মকর্তাদের হাতে। নেতৃবৃন্দদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মৃগাংক প্রসাদ বড়ুয়া, সিদ্ধার্থ বড়ুয়া এফসিএ, তুষার কান্তি বড়ুয়া, আশীষ কুমার বড়ুয়া ও বিপ্লব বড়ুয়া। উল্লেখ্য যে, এই বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা নবআঙ্গিকে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার নির্মাণে সহযোগি হয়ে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দান করেছেন। বছরব্যাপী অধ্যক্ষ ভান্তের জন্মোৎসব পালন, অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান, রোগাগ্রস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা অব্যহত থাকে। আর্তমানবতার জন্য এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে সান্ধ্যকালীন বিদর্শণ ভাবনায় অংশগ্রহণকারী সকল মা-বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। তাদের প্রত্যেকের নিরোগ দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

Comments

Popular posts from this blog

পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া হলো না অ্যানি বডুয়ার

পিএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে বাসা থেকে বের হন তিনি। পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে সহকর্মীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ দেয়ালের একটি অংশ এসে পড়ে তার ওপর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পটিয়ার সরকারি মেহেরআটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অ্যানি বড়ুয়ার (৪০)। রোববার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৯টায় কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে নিহতদের একজন তিনি। স্বামী পলাশ বড়ুয়া ও দুই ছেলে অভিষেক-অভিজিৎকে নিয়ে পাথরঘাটায় ভাড়া বাসায় থাকতেন অ্যানি বড়ুয়া। পলাশ বড়ুয়া পটিয়ার শিকলবাহায় পিডিবির প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। বড় ছেলে অভিষেক এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট ছেলে পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। পলাশ বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকের পিএসসি পরীক্ষার প্রথম ডিউটিতে তাকে শাড়িও ঠিক করে দিয়েছি। পছন্দের শাড়ি পড়ে অ্যানি ডিউটিতে যাচ্ছিল। ও আগে বের হয়, আমি পরে বের হচ্ছিলাম। এরমধ্যে শুনি এ দুর্ঘটনা। আমাদের সাজানো গোছানো সংসার এক নিমিষেই শেষ। আমি ছেলেদের কি জবাব দেবো? অ্যানির শ্বশুর বাড়ি পটিয়ায়, বাবার বাড়ি কক্সবাজারের রামুতে। তার ভাই অনিক বড়ুয়া বলেন, আমার দুই ভাগ্নের কি হবে? তাদের কান্না থামছে না। শ…

সীতাকুন্ডের প্রথম নারী পুলিশ সুপার অনিন্দিতা বডুয়া

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডের কৃতি সন্তান প্রয়াত সরোজ কান্তি ও প্রয়াতা প্রতিমা বড়ুয়ার কণ্যা অনিন্দিতা বড়ুয়া সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসাবে কর্মক্ষত্রে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। তার পিতা ব্যাংকার ও মাতা স্বনামধন্য অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। 
বুয়েট হতে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে ২৪তম বিসিএসে ০২/০৭/২০০৫ সালে এএসপি হিসাবে যোগদান করেছেন।ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাষ্টার ৯ম এপিবিএন ২০১১'সালে ছিলেন। ২০১৩ সালে এডিসি বন্দর চট্টগ্রাম,২০১৪ সাল হতে এডিসি সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার এ অতি সুনামের সহিত কর্মরত রয়েছেন।      
 চাকরিজীবনে দেশে সফলতার পাশাপাশি জাতিসংঘ মিশনে যান ২০১০ সালে, ইতালিতে ট্রেনিং এ যান ২০১৮ সালে। উল্লেখ্য এসপি অনিন্দিতা বড়ুয়া সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের সন্তান,ব্যক্তি জীবনে স্বামী রাজেশ তালুকদার সাথে রয়েছে একমাত্র পুত্র সন্তান রিসহাব বড়ুয়া তালুকদার।     
তারা তিন বোন বিসিএস ক্যাডার। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ও দারুণ জনপ্রিয় এই নারী এসপি।

পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে নিহত ৭ ৷ এর মধ্যে একজন এ্যানি বডুয়া

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ঘটনায় ৭ জন মারা গেছেন। দগ্ধ হয়েছেন অন্তত ২০ জন। রোববার সকাল ৯টার দিকে পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে ৪ জন পুরুষ, দুইজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। নিহতদের মধ্যে এ্যানি বডুয়া নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি পটিয়ার এক স্কুলের শিক্ষক বলে পরিচয় পাওয়া গেছে ৷ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডের কুঞ্জমনি ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভবনের একাংশ ভেঙে গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস চারটি ইউনিট কাজ করছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।