সামাজিক মূল্যবোধ ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

0
332

শ্রদ্ধেয় এস লোকজিৎ ভিক্ষু ফেইসবুক থেকে সংকলিত

আজও চান্দগাঁও বৌদ্ধ মহাশ্মশানে এক মৃত ব্যক্তির অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সমাপ্ত হয় ।যতটুকু জানলাম তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নয়।

কিছু ভিক্ষুকে অনিত্যসভায় আহবান (ফাং)করলেও তারা অপারগতা প্রকাশ করলো।

প্রায় সময় যেতে যেতে আমিও একটু মানসিক ভাবে ক্রান্তিবোধ করছি তথাপি কোন ভিক্ষু উপস্হিত না হওয়ায় আমি একাই অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্টানের কাজ শেষ করি ।

শ্রদ্ধেয় এস লোকজিৎ ভিক্ষু বলেন,মাননীয় ভিক্ষুসংঘ, আমরা চান্দগাঁও আছি বলে সব অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় আমরাই যোগদান করব এবং আমাদেরকে  শুধু যোগদান করতে হবে এমনটা ভাবা উচিত নয় , মাঝে মাঝে আপনাদের উপস্হিতি ঘটলে সবার জন্য মঙ্গল হয় । আমরাও একটু বিশ্রাম পায় , কারন বতর্মানে প্রতিটি অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্টানে যোগদানে একটি মানসিক চাপ থাকে , প্রায় সব এই মানসিক চাপ নেওয়াটা খুবই কঠিন এবং দায়ক দায়িকা শুভানুধ্যায়ী রা বলেন শুধু আপনারা যাবেন কেন অন্য ভিক্ষুসংঘ কোথায় ? তজ্জন্য আমাদেরকে সহযোগিতা করা আপনাদের দায়িত্ব ।
#দায়ক– দায়িকা, সুধীজন ,
আজকের অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া অনুষ্টানে প্রয়াত ব্যক্তির সহধর্মিনী ও দুই পুত্র ছাড়া (৩জন)আর কোন আত্নীয়স্বজন দেখলাম না , কেন ?? সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কিছু জ্ঞাতীস্বজন কি উপস্হিত হতে পারতো না ? সামাজিক মূল্যবোধ কি হারিয়ে গেছে,তাদের দেখে মনে হয় নাই তারা একে বারে অসামাজিক মানুষ,

একটু সান্তনা দেওয়ার জন্য তো কিছু জ্ঞাতীস্বজনের কাছে থাকা একান্ত প্রয়োজন। 

এতো স্বার্থপর হলে তো জ্ঞাতীর বন্ধন রক্ষা পারবে না , জ্ঞাতীর বন্ধন না থাকলে মনুষ্যত্ব বোধ থাকবেনা , মনুষ্যত্ব না থাকলে মানব জাতি বিপন্ন হবে । 

তাই বুদ্ধ বলেছেন জ্ঞাতীর ছায়া বড় সুশীতল। একজন জ্ঞাতী মারা গেলে তার দাহকার্য সম্পাদন এবং প্রয়াত স্বজনদের পাশে গিয়ে সান্তনা দেওয়া সমবেদনা জানানো তো জ্ঞাতী কর্তব্য ।

 করোনা করোনা বলে একে বারে দায়িত্ববোধ ভুলে যাওয়া কি উচিত ? সবাই তো মরবো,বাচাঁর জন্য এতো আত্মকেন্দ্রিক হওয়া শোভনীয় নয়, 

সবাইকে আহবান করবো সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই কঠিন সময়ে জ্ঞাতীদের পাশে থাকুন ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here