বিদ্যুত বড়ুয়াকে দেখেই কেঁদে ফেললেন বেঁচে যাওয়া সিদ্দিক !

0
300

আজ থেকে ১৫ দিন আগে দক্ষিণ হালিশহর থেকে রাতের আধারে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল গেইটে একটি কালো অ্যাম্বুলেন্স এসে ফেলে দিয়ে যায় সিদ্দিক আহমেদকে। কুড়িয়ে পাওয়া করোনা-শনাক্ত সেই রোগীকে স্বাস্থ্যকর্মীরা ভর্তি করান ফিল্ড হাসপতালে। প্রচণ্ড কাশি, শ্বাসকষ্টের নিরবচ্ছিন্ন সেবায় সিদ্দিক আহমেদ এখন অনেকটাই সুস্থ। কাশি নেই। নেই শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের ব্যথাটি।

‘কেমন আছেন’- জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন ৬০ বছর বয়সী সিদ্দিক আহমেদ। হ্যাঁ, এই কান্না কষ্টের নয়, বরং আনন্দের, বেঁচে ফেরার। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘উনি, উনি না হলে আমি বাঁচতাম না। এতদিন হয়তো আমার কবর হয়ে যেতো।’ উনি মানে ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া; চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের সিইও।

হ্যাঁ ডা. বিদ্যুত বড়ুয়ার তত্ত্বাবধানে একঝাঁক চিকিৎসা-স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক যোদ্ধাদের নিরন্তর প্রচেষ্টার ফল সিদ্দিক আহমেদের এমন কান্নাভেজা হাসি। কেবল সিদ্দিক নয়, ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সবার মুখে একই কথা, এক হাসি। চিকিৎসাধীন সকলেই সমস্বরে বললেন, ’মানবিক বিপর্য়য়ের এমন খড়ায় সত্যিই অনন্য, অসাধারণ এক মানবিক প্রতিষ্ঠান।’

বলাবাহুল্য, করোনা হওয়ার পর অচ্ছ্যুৎ ভেবে যারা সরে গিয়েছিলেন, সিদ্দিক আহমেদের আপাতরক্ষা, বেঁচে যাওয়ায় সেই স্বজন-শুভার্থীরা এখন তার খোঁজ নেন। ফলমূল পাঠান হাসপাতালে।

ফিল্ড হাসপাতালের সিই্ও ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া বললেন, ‘এখানে যারা ভর্তি হয়েছেন, তারাই আমার ধ্যান-জ্ঞান, আমার সংসার। সেবায়-চিন্তায়, সাহসে- সবদিক দিয়ে যেন তাদের ভালো রাখা যায়, সেটাই আমাদের নিরন্তর চেষ্টা। দোয়া করবেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সেবার জন্য যেন লড়ে যেতে পারি।

যতক্ষণ দেহে বল থাকবে, কণ্ঠে প্রাণ থাকবে, হাসপাতালে বেড থাকবে ততক্ষণ ছোটবড়, ধনী-দরিদ্র সবাই সেবা পাবেন। এখানে সেবাপ্রাপ্তির জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই- যোগ করেন ডা. বিদ্যুত বড়ুয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here