সাম্প্রতিক দুই নিন্দনীয় সমাচার

লোকএসজিৎ থের
ভদন্ত এস.লোকজিৎ থের
১. লোহাগড়া উপজেলার বিবিরবিলা গ্রামে বিবিরবিলা শান্তি বিহারে গত কিছু আগে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাংচুর করা হয়। কে বা কারা করছে তার সঠিক তথ্য আমাদের অজ্ঞাত, বিহার কমিটির পক্ষে সভাপতি জয়সেন বড়ুয়া মামলা করেছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সেই আসামীরা জয়সেন বড়ুয়া ও তার পুত্র রকি বড়ুয়া সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে (তৎসূত্র – বিবিরবিলা বিহার এর অধ্যক্ষ)। ঘটনার পর থেকে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ফোন আসতে থাকে ঘটনা কি এবং রকি বড়ুয়া আসলে ভিক্ষু কিনা। পুলিশ, সাংবাদিক এর জিজ্ঞাসাবাদ কত যে বিব্রতকর তা ভুক্তভোগিরা জানবেন। তবুও দায়িত্ব থাকার কারনে কথা বলতে আমি বাধ্য ছিলাম। আমি যেটা সত্য সেইটাই বলেছি তিনি আমাদের সংগঠনের ভিক্ষু ছিলেন না, আমি কোন সময় চীবর পরিহিত অবস্হায় তাকে (রকি বড়ুয়া) দেখি নেই। রকি বড়ুয়া বাংলাদেশে কোন সময় ভিক্ষু ছিলনা।
ভিক্ষুসংঘের সাথে ধর্মীয় কোন অনুষ্টানে চীবর পরিহিত অবস্হায় বাংলাদেশে যোগদান করেন নেই। এদেশে তার কোন ধর্মীয় গুরু নাই তাহাকে কেউ ভিক্ষু ও  শ্রামনত্ব প্রদান করে নাই। অন্য দেশে গিয়ে ভিক্ষু শ্রামন হয়েছে আমাদের সাথে ভিক্ষু বা শ্রামন হিসাবে কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু মিডিয়া তার অপকর্ম গুলো ভিক্ষু ছিল বলে আবরনে জড়িয়ে ভিক্ষুসংঘকে প্রশ্নবিদ করার পাঁয়তারা করে। যা অত্যন্ত দু:খের বিষয়। রোহিঙ্গা সমস্যা পর থেকে বৌদ্ধদের যে কোন  ইসু্তে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জড়িয়ে অপকর্ম গুলো প্রচারে তৎপর থাকে একটি বিশেষ গোষ্টী। যা আমরা অনেকে না বুঝে সেই গড্ডালিকা প্রবাহে সেই বিশেষ গোষ্টীর সাথে মিশে যায়। ফলে বৌদ্ধদের জাতীয় স্বার্থে কিভাবে আঘাত আসে তা আমরা উপলব্দি করতে পারছিনা। বিশেষ করে বৌদ্ধ মিডিয়া গুলো (ফেইসবুক, অনলাইন) এই বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা গুলো এবং মিডিয়া গুলো ফোন করে জানতে চেয়েছে বিষয়টা কি অথচ আমাদের বৌদ্ধ মিডিয়া গুলো বিষয়টা গভীর ভাবে না জেনে প্রচার করে দিল। ফলে ভিক্ষুদের প্রতি অশ্রদ্ধা সৃষ্টির আর একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়ে গেল। যার কারনে বিহার হামলার মামলা টা হয়তো বিভিন্ন রূপ নেবে। যা ভবিষ্যতে বৌদ্ধদের জন্য চিন্তার বিষয়। আমি ব্যক্তিগত কোন অপকর্মকে সমর্থন করি না, রকি বড়ুয়া তার কর্মফল সে ভোগ করবে। আমাদের উচিত একজন রকি বড়ুয়ার জন্য একটি জাতিকে কলংকিত করতে পারি না , আমরা একটু সতর্ক হলেই জাতিকে রক্ষা করে তার অপকর্ম গুলোর জন্য সেই নিজে একা ভোগ করতো। ভিক্ষু শব্দটা না জড়িয়ে পারা যেত। আগামীতে সবাইকে এই বিষয় গুলো চিন্তার অনুরোধ রইল। কারণ যে কোন বিষয়ে ভিক্ষু শব্দ জড়িয়ে দেওয়া মানি বৌদ্ধ জাতির বিবেক কে প্রশ্নবিদ করা । যার যে কর্ম সে তা ভোগ করুক এবং বিহারে হামলার সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

২.
আবার গতকাল সন্ধ্যার সময় ইনবক্স এ একটি ভিডিও ক্লিপ পেলাম। তিনজন যুবক মাথা নেড়া করে চীবরের কিছু অংশ পরিধান করে অশুভ আচরনে মগ্ন। যা আমাকে খুবই  বিব্রত করল  আমি এই সব অপকর্মের নিন্দা জানাই। এরা কেউ প্রকৃত ভিক্ষু শ্রামন নয় এবং আমার জানামতে তারা কেউ বাংলাদেশে অবস্হান করছেন না। যতটুকু জেনেছি তারা চট্রগ্রাম জেলার একটি থানার ছেলে (অনুসন্ধান চলছে )। ভিডিও টি একজন উপাসক তার ফেইসবুক আই ডি তে পোষ্ট করলে সাথে সাথে আমি তাহার  সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সংঘের প্রতি শ্রদ্ধার কারনে তা ডিলিট করে। তাকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ বৌদ্ধদের জাতীয় স্বার্থের কারনে অন্যরা না দেখার জন্য ডিলিট করার আহবান করি। কিন্তু অন্যায়কারীকে কোন ভাবে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। তজ্জন্য সামাজিক ভাবে সমষ্টি গত ভাবে আমাদেরকে আন্দোলন করতে হবে। তাদের বংশ পরিচয় তুলে ধরে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ সৃষ্ট করতে হবে। কারণ এই সব ভূয়াদের  কারনে প্রকৃত ভিক্ষু শ্রামনদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে যাবে এবং শাসনের মহা ক্ষতি হবে তাই ভিক্ষুসংঘ ও দায়ক দায়িকা উভয়কে এই সব ঘৃণিত কর্ম প্রতিরোধের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। বুদ্ধের মহান শাসনকে রক্ষা করতে হবে।

লিখেছেন:
এস. লোকজিৎ থের
মহাসচিব, বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভা।
অধ্যক্ষ, ঐতিহ্যবাহী পূণ্যতীর্থ চান্দগাঁও সার্বজনীন শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here