মুমূর্ষু স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায়ই বিনিদ্র রাত কাটে ছটফটানো চাপা যন্ত্রণায়। তারপরও অমীমাংসিত হিসেব বুঝি মেলেনা কিছুতেই।।
কি হতে চলেছে,কি হবে?
সুদীর্ঘ বছরের  অভ্যাস জনিত কারণে প্রতি সকালেই আধভেজা চোখে মুঠোফোনের পর্দায় চোখ বুলিয়েই ঘুম ভাঙে।এখনও তার  ব্যতিক্রম নয়।
পার্থক্য শুধু এখন আর আনন্দের সংবাদে মিষ্টি হাসিতে ঘুম ভাঙেনা। ভাঙে স্বজনের মৃত্যু সংবাদ বা নতুনভাবে আক্রান্তের সংবাদে।
মুঠোফোনে বেল বাজলেই দুরুদুরু বুকে তা গ্রহণ করতে হয় এই বুঝি এলো কোন দুঃসংবাদ।
নিত্য আতঙ্কে দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হতে চলেছে এই প্রিয় চট্টগ্রাম
চোখের সামনেই ধীরে ধীরে টকটকে লাল গোলাকার ক্ষতে পরিণত হচ্ছে প্রাণের চট্টলনগরী।না কোন চিকিৎসা সেবা, না কোন চিকিৎসা সামগ্রীর সহজলভ্যতা। যা ক্রমেই সাধারণ মানুষ হতে দূরে সরে যাচ্ছে।
অসুস্থ মানুষগুলো যেনো কেরামের গুটিতে পরিনত হয়েছে।
স্বাস্থ্যব্যবস্থা সহ হাসপাতালে শয্যা সংকট বা আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের অপর্যপ্ততার কারণ দেখিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে শঙ্কাগ্রস্থ রোগীদের।
তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে রোগীরা হাসপাতালে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন হয় কোভিড পজেটিভ/ নেগেটিভের সনদপত্র।
কোভিডের লক্ষন না থাকা সত্বেও তা যোগাড় করতে শত মানুষের ভীরে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে হাজার ভোগান্তি শেষে চার পাঁচ দিন পর যখন সনদপত্র পায় তখন হয় রোগী বেঁচে থাকেনা বা থাকলেও তা আর নেগেটিভ হওয়ার সুযোগ থাকেনা।
এমনও হয় লাইনে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে শ্বাস যন্ত্রণায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে ডানে বামে। এ যেন মুমূর্ষু চট্টগ্রাম !! মুমূর্ষু স্বাস্থ্যব্যবস্থা !
যদিও একদিকে স্বজনের কান্না  আর বাকিদের আতঙ্কিত  নিরুপায়, নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া  কিছু করার থাকে না।
আর এখন তো চিকিৎসা সামগ্রী মাস্ক,পিপিই,গ্লাভস, জীবাণু নাশক, ঔষধ  নিয়েও চলছে রমরমা ব্যবসা।অক্সিমিটার ও অক্সিজেনের অপ্রতুলতা ও মাত্রাতিরিক্ত দাম মানুষের হাতের নাঙালের বাহিরে।
মানুষ মারা যাচ্ছে নিয়ত।
প্রায় চার থেকে পাঁচগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে চিকিৎসা সামগ্রী।আবার যেসকল ঔষধ হাল সময়ে রোগের উপযোগী তাতো একেবারে বাজার থেকে উধাও।
এমন কড়া শক্তিশালী ব্যবসায়ীচক্রের হাতে জিম্মি হয়েছে ঔষধগুলো যেমনটা হয় ঈদের বাজারে আদা, রসুন, পেঁয়াজ কিংবা মশলাদির বাজার।
ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে তৃপ্তির ঝিলিক।
অভিভাবকহীণ চট্টগ্রামের প্রতি কেন এই উদাসীনতা??
কেন এই অবহেলা? চট্টগ্রাম স্বাস্থ্যব্যবস্থা তো আর ভালোহওয়া উচিত ছিল।
আমাদের দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং এর মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয় দেশের অর্থনৈতিক জীবনীশক্তি। দেশের সর্বমোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭৫%  সংঘটিত হয় চট্টগ্রামের উপর দিয়ে।
অন্যদিকে আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর হার ৮০%।
রাজস্ব আয়েও চট্টগ্রামের ভূমিকা ফেলনা নয় । মোট রাজস্ব আয়ের ৬০% আসে চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যে হতে।।
 অথচ দেশের অথর্নীতির প্রাণশক্তি এই বন্দর নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এহেন ভঙ্গুর দশা, এটির প্রতি ঔদাসিন্য ভাবিয়ে তোলে আদৌ এটি দেশের অংশ কিনা?
যখন সারাদেশে সাধারণ ছুটির নামে লকডাউনে নিরাপদে বন্দী ছিলো মানুষ তখন অর্থনীতির দোহায় দিয়ে সাধারণ শ্রেণীর
 পোশাক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রতিশ্রুতিতে বের করে আনা হলো কারখানায়।
যদিও এখন শোনা যাচ্ছে বিজিএমইএ এর সভাপতি আমাদের প্রিয় নারীবান্ধব নেতার নিরুপায় আহ্বানে ছাটাই হবে ৬০% কর্মী।
বাংলাদেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের মধ্যে  ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সিইপিজেড প্রথম ও প্রধান ইপিজেড।
যেখানে বর্তমানে ১৫৮টি গার্মেন্টসে কাজ করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিক।
যার প্রতিটি কারখানায় কাজ করে হাজারেরও বেশি শ্রমিক।
এই দেশের অর্থনৈতিক যোদ্ধাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া  যুদ্ধে নামিয়ে সারা দেশকে রোগের আঁকড়া বানিয়ে এখন কর্মী ছাটাই এর নামে চলছে শ্রেণি শোষণ।
মাজ রাতে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে বন্ধু যখন ফোন করে বলে বলে, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বন্ধু, কোন  হাসপাতালে কিছু একটা ব্যবস্থা কর।
তখন অবচেতন মনে বন্ধুর চিরবিদায়ের সুরে হাহাকার করা বুকে যখন নিজেদের কোটি টাকার অংশীদারত্বের অধিকারে  হাসপাতালে ফোন করেও সুফল পাওয়া যায়না।
তখন বড্ড অসহায় মনে হয় নিজেকে।দেশের জাতীয় আয়ের সিংহভাগ চট্টগ্রামের অংশগ্রহণে হলেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মুমূর্ষু অবস্থার কি কোন প্রতিকার হবেনা?
 ক্রমেই চট্টগ্রাম  মৃত্যুকূপে পরিণত হলে  দেশের অর্থনীতি পুনরায়  ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তো?
তবে আশার কথা এই, দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রদবদল হতে শুরু করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সচিব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী জননেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পরীক্ষিত আস্থাভাজন কর্মকর্তা  জনাব আবদুল মান্নান মহোদয়,
 যিনি পরপর দু’বার যথাক্রমে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত থেকে যথাযথ  সুকঠিন হাতে তাঁর দায়িত্ব পালনের সাথে ভালোবেসে
 চট্টগ্রামের মানুষের সুখে দুখে নিরলস প্রচেষ্টায় কাজ  করে গেছেন। তাই সেই ভালোবাসার অধিকারে চট্টলবাসী আশাবাদী, তিনি চট্টল নগরীর করুন অবস্থা হতে বরাবরের মতো উদ্ধার করে সরকারকে দায়মুক্ত করবেন।
লিখেছেন :
অধ্যাপিকা ববি বড়ুয়া
সাধারণ-সম্পাদিকা
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি (মহিলা) 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here