হত্যাকারী বাবাও চলে গেলেন না ফেরার দেশে

0
533

চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুই মেয়েকে গলাটিপে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করা সেই বাবা মুখেন্দু বড়ুয়া বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটিয়া  ভান্ডারগাঁও থানার ওসি বোরহান উদ্দিন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) গভীর রাতের যে কোনও একসময়ে উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ভান্ডারগাঁও গ্রামের বড়ুয়া পাড়ায় শ্বশুর বাড়িতে দুই মেয়েকে গলাটিপে হত্যার পর বিষপান করে আত্নহত্যার চেষ্টা চালান মুখেন্দু বড়ুয়া (৫০)।

মুখেন্দু বড়ুয়াকে পুকুর ঘাট থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

সেখান থেকে নিয়ে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত দুই মেয়েকে চমেক হাসপাতালে পোস্ট মর্টেম শেষে বুধবার রাতে সৎকার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত শৈবাল বড়ুয়া বাদি হয়ে মুখেন্দু বড়ুয়াকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন পটিয়া থানায়।

নিহত টুকু বড়ুয়া (১৫) কাশিয়াইশ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তার ছোট বোন নিশি বড়ুয়া (১০) ভান্ডারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

দুই ভাগ্নিকে এক সাথে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মামীরা। তিন বছর আগে ক্যান্সারে মা মারা যাওয়ার পর থেকে শশী ও নিশি দুই কন্যা সন্তান থাকতেন মামা বাড়িতে

খুলনায় জাহাজে চাকরি করতেন পিতা মুখেন্দু বড়ুয়া বড়ুয়া। 

লকডাউন শুরু হলে চাকরি চলে যায় তার। এ সময় পটিয়া শ্বশুর বাড়িতে চলে আসেন তিনি। 

এরপর থেকেই সন্তানদের নিয়ে থাকতে শুরু করেন। হঠাৎ করেই মঙ্গলবার ভোররাতে শ্বাসরোধ করে সন্তানদের হত্যা করেন পিতা। 

নিজেও বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন

এ ঘটনায় বুধবার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

ব্যত্তিগত জীবনের হতাশা থেকেই দুই মেয়েকে হত্যা ও নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে ধারণা পুলিশের।

সম্প্রতি লকডাউনের কারণে জাহাজের চাকরি হারিয়ে হতাশা থেকে এ ধরনের হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।

সুস্থ হয়ে উঠলে আসল রহস্য উদঘাটন করা যাবে।

কিন্তু তার আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ফলে কি কারণে এই হত্যাযজ্ঞ তা অজানাই রয়ে গেল।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here