প্রজ্ঞাসাধক প্রজ্ঞাবংশ মহাথের

0
224

মুনা বডুয়া চৌধুরী

আজ ২০শে আগষ্ট ২০২০ইং ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর ৭১ তম শুভ জন্মলগ্নে শ্রীপাদমূলে বন্দনা।

ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের কেবল একটি নাম নয়, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।

ভারত-বাংলা উপমহাদেশে জ্ঞানে-ধ্যানে, শীল-বিনয়ে, বলনে-লিখনে এবং ত্রিপিটক অনুবাদ কর্মে ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথের একটি অদ্বিতীয় ও শ্রদ্ধেয় নাম।

যেখানে যেখানে তিনি অবস্থান করেছেন, সেখানে সেখানে গড়ে তুলেছেন শিক্ষা ও সেবামূলক নানা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা।

গড়ে তুলেছেন সুদক্ষ ও সুশিক্ষিত শিষ্য সংঘ।

ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর মধ্যে রয়েছে অদম্য কর্ম স্পৃহা।

তিনি যেমনি বলতে পারেন, তেমনি লিখতেও পারেন। আবার সুনিপুণ সাংগঠনিক দক্ষতাও তাঁর রয়েছে।

তাঁর জীবনাদর্শ বুদ্ধশাসনে অনেক ভিক্ষুর অনুকরণীয় জীবনাদর্শরূপে প্রতিভাত হয়েছে।

ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর জীবন ত্যাগাদর্শে মহীয়ান।

ধ্যান, জ্ঞান, বিদ্যা-বুদ্ধি, দান-দক্ষিণা, লেখা-পড়া যা কিছু তিনি জীবনে দেশ-বিদেশ হতে তিল তিল করে অর্জন করেছেন,

সবই তিনি দেশ, সমাজ, সম্প্রদায়, বুদ্ধশাসন এবং সদ্ধর্মের কল্যাণ ও হিতের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন এবং এখনও তা নিরন্তর করে যাচ্ছেন।

সমগ্র জীবনটাই তিনি পরার্থে উৎসর্গ করেছেন নিঃস্বার্থভাবে।

তিনি নিজে যেমন ধর্ম-বিনয়ে উচ্চ শিক্ষিত হয়ে ত্রিপিটক গ্রন্থের বেশ কয়েকটি মুল্যবান বই মূল পালি হতে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন,

তেমনি অনেক শিষ্যদেরকেও পালি শিখিয়ে অনুবাদ করতে ধর্ম-বিনয় ও পালি ভাষা হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তুলেছেন।

যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজ সম্পূর্ণ ত্রিপিটক বাংলা ভাষায় লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। যে কাজ অগ্রমহাপণ্ডিত ভদন্ত প্রজ্ঞালোক, ড. বেণীমাধব, ভদন্ত শীলালঙ্কার, ভদন্ত জিনবংশ, ভদন্ত ধর্মাধার,

ভদন্ত ধর্ম তিলক ভদন্ত সত্যপ্রিয় প্রমুখ মহামনীষীদের হাত ধরে রেঙ্গুন মিশন প্রেস হতে শুরু হয়েছিল তা সম্পূর্ণ হয়ে পূর্ণতা লাভ করেছে অনেক বছর পর ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর জাদুকরী হাতের স্পর্শের মাধ্যমে।

এ কারণে বঙ্গীয় বৌদ্ধ সাহিত্যে ভদন্ত প্রজ্ঞাসাধক প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর নাম স্বর্ণাক্ষরে ইতিহাসে খোদিত থাকবে।

ভদন্ত প্রজ্ঞাবংশ মহাথেরোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় আজ সমাজের অনেক ছেলেরা জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে তাঁর প্রধান এবং প্রথম শিষ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জ্ঞানরত্ন মহাথেরো নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য,

তা ছাড়াও রয়েছে শ্রদ্ধেয় ডঃ শরনাপাল ভিক্ষু ,মুদিতারত্ন ভিক্ষু,ও শাসনরক্ষিত ভিক্ষু প্রমুখ তাঁর উজ্জ্বল নক্ষত্রসম শিষ্যবৃন্দ।

অনেক ভিক্ষু-শ্রামণদের তিনি দেশ-বিদেশে পড়া লিখা করার সুযোগ করেও দিয়েছেন। যাঁরা যেখানে গিয়েছেন, সেখানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

তাঁর মত সুদেশক ও সুলেখক আমাদের বঙ্গীয় বৌদ্ধ সমাজে বিরল বললে অত্যুক্তি হবে না।

তাঁর লেখনী যেমন সুখপাঠ্য তেমনি দেশনায়ও রয়েছে মোহিনী শক্তি।

দেশনার সময় শ্রোতাকে তিনি মন্ত্রমুগ্ধ করতে পারেন। ভদন্ত মহোদয়ের সুললিত কণ্ঠের সুত্রপাঠও শ্রোতাদের ভাববিভোঢ় করে তোলে।

দেশনা, সুত্রপাঠ, লেখনী, অনুবাদ, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়নে যেখানেই তিনি হাত দিয়েছেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে অভূতপূর্বভাবে তিনি সফলতা লাভ করেছেন।

আমার দৃষ্টিতে তিনি বঙ্গীয় বৌদ্ধ ভাগ্যাকাশে ধ্রুবতারা সদৃশ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here