মহাস্থবির অভিধা এর প্রেক্ষাপট

0
226

ভদন্ত তিসসানন্দ মহাথেরাে

অভিধা শব্দের অর্থ- জ্ঞানের পরিধি অনুসারে কোন পরিষদ বা কোন প্রতিষ্ঠান, কোন সংস্থা, কোন সংঘ হতে জ্ঞানী, পারদর্শী, উপযুক্ত এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ স্বরূপ সম্মতি, স্বীকার প্রদান করা বুঝায়।

কিন্তু বুদ্ধ পরিভাষায় এই অভিধা’ শব্দের অর্থ খুবই গম্ভীর ও গুরুত্ববহ, আর মহাস্থবির- যা পালি ভাষায় মহাথেরাে, এর অর্থও গুরু গম্ভীর ও অর্থবােধক ।

‘স্থবির এর অর্থ হচ্ছে-স্থীর, ধীর, শান্ত, সৌম্য, কান্ত। মহা শব্দের অর্থ-অধিক অত্যধিক, বেশি, বড় ইত্যাদি বুঝায় ।

সুতরাং মহাস্থবির অর্থ সহজ ভাবে বুঝানাে যায় মহাশান্ত, মহাধীর, সৌম্যদীপ্ত কান্তময় । যিনি চঞ্চলতা, অস্থিরতা অজ্ঞানতার বহু উর্ধ্বে।

বৌদ্ধ সাহিত্যে অবশ্য মহাস্থবির শব্দের ব্যবহারের চেয়ে স্থবির শব্দটির প্রচলন বেশি পরিলক্ষিত হয়।

যেমন-রেবত স্থবির, আনন্দ স্থবির। কিন্তু তাঁরা সকলেই মহাস্থবির ছিলেন।

এখন এই মহাস্থবির অভিধা সম্বন্ধে বলতে গেলে-লােকোত্তর জ্ঞানে যারা সমৃদ্ধ বা মার্গফলের অধিকারী, প্রকৃতপক্ষে তাঁদেরকে এই অভিধায় বিভূষিত করা হয়।

কারণ বৌদ্ধ সাহিত্যে দেখা যায় যারা বুদ্ধের সময়কালে ও পরবর্তীতে এই স্থবির বা মহাস্থবির অভিধায় বিভূষিত ভিক্ষুগণ সকলেই মার্গফল লাভী ছিলেন।

বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে স্থবির ৩ প্রকার যথা-জাতি স্থবির (জ্যোতি থেরাে), ধর্ম স্থবির (ধম্ম থেরাে), সম্মতি স্থবির (সম্মতি থেরাে)।

জাতি স্থবির: জাতি বা জন্মের পর বয়ক্রমে যা বৃদ্ধ হয়েছে তাকে স্থবির বলা হয় ।

ধর্ম স্থবির: চার প্রকার অপায়ের বিঘাের দুঃখে পড়তে না দেওয়ায় ধারণ করে রাখে বলেই ধর্ম।

এ ধর্ম ৩ প্রকার । যেমন- পরিয়ত্তি ধর্ম, পটিপত্তি ধর্ম, পটিবেধ ধর্ম তন্মধ্যে ভগবান বুদ্ধের মুখনিসৃত অমৃতময় বাণী সমূহ সংগ্রহ করে যেই ত্রিপিটক শাস্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে তাকে পরিয়ত্তি ধর্ম বলা হয় ।

তের প্রকার ধুতাঙ্গ, চৌদ্দ প্রকার খন্দক ব্রত, আশী প্রকার মহাব্বত সমাধি ও বিদর্শন এই সমস্ত বিধানকে পটিপত্তি ধর্ম বলা হয়।

চার প্রকার আর্যমার্গ, চার প্রকার মার্গফল ও নির্বাণ এই নয় প্রকার লােকোত্তর বিষয় বােধগম্য করাকে পটিবেধ ধর্ম বলা হয়।

এই ত্রিবিধ ধর্ম অনুশীলনে ও প্রত্যক্ষ এর মধ্য দিয়ে বয়স যৌবন অতিক্রম করাকে ধর্ম স্থবির বলা হয় ।

সম্মতি স্থবির যে কোন ভিক্ষুর উপসম্পদা গ্রহণ করার পর হতে শিক্ষার্থী কোন একজন শাস্ত্রজ্ঞ আচার্যের অধীনে থেকে,

দশ বৎসর পূর্ণ হওয়ার পর সংঘের পরিষদ অধিবেশনে ঐ ভিক্ষুর স্বয়ং উপস্থিতিতে প্রার্থনা করে পরিষদ হতে

সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃতি লাভ করলে তাকে সম্মতি স্থবির বলা হয়।

এর পর কোন আচার্যের অধীনে বা স্বাধীনভাবে কোন বিহারে অবস্থান করে দুইশত সাতাশ প্রকার পাতিমােক্ষ শীল,

চৌদ্দ প্রকার খন্দকবৃত প্রভৃতি বিনয়ের বিধান গুলি পালন করে আরও দশ বৎসর অতিক্রম,

হওয়ার পর পর ঐ নিয়মে সংঘের পরিষদ হতে স্বীকৃতি লাভ করলে তাঁকে সম্মতি স্থবির বলা হয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here