সূত্র বা পরিত্রাণ

0
281

সূত্র চতুর্মহাসত্যের সূচনা করে বলেই সূত্র। ভগবান বুদ্ধ বলেছেন, “চতুসচ্চ বিনিমুক্তো ধর্মের নাম নথি”- চার আর্যসত্য বর্জিত কোনাে ধর্মই নেই, হতেই পারে না।
বপিত শষ্যের ন্যায় শ্রোতাদের শ্রবনে সুফল প্রসুত হয় বলে সূত্র।
সুতায় গ্রহিত পুষ্পরাশি যেমন বাতাসে বিকিরণ করতে পারে না সেরূপ সূত্রে সংগৃহীত অর্থ ও বিক্ষিপ্ত হতে পারে না বলেই সূত্র।
পরিসমন্ততাে আযতি রকখতীতি পরিত্তং”- যে মঙ্গলময় ও কল্যাণময় বাণী পাঠের মাধ্যমে মানুষ চতুর্দিকের নানাবিধ বিঘ্ন-বিপত্তি, বিপদ-আপদ, দুঃখ-ভয়, রােগ-শােকাদি থেকে ত্রাণ বা রক্ষা পেয়ে থাকে, তাহাই পরিত্রাণ বা সূত্র।

ভগবান বুদ্ধ মানব-কল্যাণের জন্য যে সমস্ত মাঙ্গলিক ধর্ম দেশনা করে গিয়েছেন, তাহা সূত্র এবং পরিত্রাণ নামে অভিহিত।
সুন্দর মঙ্গলার্থের সূচনা করে বলে সূত্র,আর সমস্ত আপদ-বিপদ হতে রক্ষা বা ত্রাণ করে বলে পরিত্রাণ।

সূত্র বা পরিত্রাণ পাঠ বিধি

বুদ্ধের পবিত্র মঙ্গল বানী প্রত্যক্ষভাবে আবৃত্তি করাই হচ্ছে সূত্রপাঠ বা পরিত্রাণ পাঠ।

পৃথিবীতে বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়। মন্ত্রৌষধির একটি অদ্ভুত শক্তি রয়েছে।

যেমন মন্ত্রের দ্বারা বিষধর সর্পবিষ নেমে যায় এবং আরও বহুবিধ অসম্ভব কার্য সম্পাদিত হয়; তেমন বুদ্ধের পবিত্র মঙ্গল বানী প্রত্যক্ষ ফলদায়ী বলেই এর পাঠে ও শ্রবণে মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণ সাধিত হয়।

বুদ্ধ বাণীর গুরুত্ব ও প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম।

এই পরিত্রাণ পাঠ হতে যথাযথ উপকার পেতে হলে এর পাঠে ও শ্রবণে শ্রদ্ধাচিত্তের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য।

এছাড়া ভালরূপে পরিত্রাণ পাঠের অভ্যাস করাদরকার।

শব্দের উচ্চারণ সঠিক না হলে কিংবা পাঠের সময় শব্দ বা পদ বাদ পড়লে অর্থ যেমন হৃদয়ঙ্গম হয় না, তেমনি শ্রদ্ধাশূণ্য গতানুগতিক ( দায়সারা) সূত্র পাঠের সাহায্যে যথােচিত ফলও লাভ করা সম্ভব নয়।

পঠিত সূত্রের সারমর্ম বুঝিয়ে দিতে পারলে অতি উত্তম সূত্রপাঠ হয় ।

সূত্র-শ্রবণে ইচ্ছুক পরিবারেরও কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সূত্র-শ্রবণের দিন ঘর বাড়ী ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা দরকার।

বাড়ীর আশ-পাশও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়, যাতে সৎ ও হিতকারী দেবগণের আগমন হয়। মহাকারুণিক তথাগত বুদ্ধের পবিত্র বাণী শােনার জন্যে ভিক্ষুরা যখন দেবগণকে আহ্বান করেন বা আমন্ত্রণ জানান, তখন তাঁরা সূত্র- পাঠের জায়গায় সমবেত হন।

অপবিত্র জায়গায় সৎ দেবতার আগমন কখনাে আশা করা যায় না।

প্রতিবেশী ও জ্ঞাতি-মিত্রকে সূত্র শােনার আমন্ত্রণ জানালে পুণ্য বৃদ্ধি হয় এবং আগমনকারীদেরও যথেষ্ট উপকার সাধিত হয়।

ভিক্ষুর সম্মুখে পল্পব মঙ্গলঘট প্রজ্জ্বলিত প্রদীপসহ স্থাপন করা অবশ্য কর্তব্য এর সাথে সূতার ঘেরায় শ্রবণকারী সবাইকে আসন গ্রহণ করতে হয়।

তথ্য সূত্রে :
সাধক শিশির বড়ুয়া চৌধুরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here