জাতির সম্পদ ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও আমাদের বিচিন্তা

0
384

লিখেছেন : এস লোকজিৎ ভিক্ষু

হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্যকন্যা ,বিশ্ব মানবতার জননী , অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধার্মিক রাষ্ট্রনায়ক, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী , বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সুযোগ্য দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া মহোদয় আমাদের জাতির সম্পদ ।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আদর্শের অনুসারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক, সার্বজনীন গ্রহনযোগ্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ।

তাহার মেধা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন ।

বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দল রয়েছে , দলে দলে বা ব্যক্তি ব্যক্তিতে বিভিন্ন আলোচনা সমালোচনা হয়ে থাকে।

কোন না কোন কারণে একে অপরের সাথে তর্কবিতর্কে লিপ্ত হয় ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে টানাটানি হয় ।

কিন্তু ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া এমন একজন ব্যক্তি যিনি দীর্ঘদিন রাজনীতি ও ক্ষমতায় থেকেও কোন রূপ কলংকিত হয় নাই।

অন্য কোন দল বা দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ তার ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে আক্রমণ করতে দেখি নাই । এইটা হলো তার আদর্শের অন্যতম গুণ।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমরা বড়ুয়াজাতিরা সেই বাঙ্গালীর জাতির সম্পদ ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়াকে কলংকিত করতে চাই কান্ডজ্ঞানহীন ও আত্ম অহংকারের মোহে ।

রাঙ্গুনিয়ার ফলাহারিয়া জ্ঞানশরণ মহারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা আয়ুস্মান ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহোদয়কে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগ এবং স্হায়ী কিছু মানুষের সাথে এবং তর্কবিতর্কের পর্যায়ে স্হানীয় এমপি মাননীয় মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এবং তাহার ভাই এরশাদ মাহমুদ কে জড়িত করলো ।

দেখা যায় এখানে ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়ার সাথে কোন রূপ সম্পর্ক নাই তিনি সেই এলাকার সন্তান নয় তারপরেও স্বজাতির প্রতি ভালবাসা ,বৌদ্ধ জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করে শত ব্যস্ততার মাঝেও অহিংসাভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক কষ্ট করে আমাদের বৌদ্ধ নেতাদের ( তাহারাও অনেক মেধা শ্রম দিয়েছেন ) সঙ্গে নিয়ে মাননীয় মন্ত্রীর সাথে ভদন্ত শরনংকর থেরোর মাঝে দূরত্ব গুছিয়ে একটি সমাধানের পথ তৈরি করলেন যা আমাদের সকলের সাধুবাদ যোগ্য ।

এখানে প্রাথমিক ভাবে অর্জনটা কম নয় , একজন মন্ত্রী আবেদনপত্রে যে ভাবে ভূমির জন্য সুপারিশ করেছেন তা কিন্ত কম নয় তজ্জন্য অহিংসাবাদে আন্দোলনকারী এবং ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া সহ সংশ্লিষ্ট সকল বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই ।

কিন্তু দু:খের বিষয় সমাধানের পদক্ষেপটা বাস্তবায়নের সময় না দিয়ে আমরা তাদের ( ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ বৌদ্ধনেতৃবৃন্দ) চরিত্র হননের চেষ্টা , গালমন্দ করতে লাগলাম ।

কি এক অদ্ভুত মানুষ আমরা , যারা এতো কষ্ট করলো ,করোনা ভাইরাসের ভয় তথা নিজের মৃত্যু উপেক্ষা করে জাতির মঙ্গলের জন্য ভদন্ত শরনংকর থেরোর হিতের জন্য ঢাকা-চট্রগ্রাম- রাঙ্গুনিয়া দৌঁড়াদৌঁড়ি করলো অথচ আমরা তাদের সম্পর্কে কটুকথা বলতে একটুও চিন্তা করলাম না ? আমরা কি মানুষ ?

আমাদের কি কোন বিবেকবুদ্ধি নাই? আমরা যারা দেশে বিদেশে ঘরে বসে শুধু ফেইসবুকে লেখালেখি করি তারাই কি জাতি রক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি ?

ফেইসবুকে বক্তব্য আর লেখালেখি করে আমরা কি জাতিকে রক্ষা করতে পারবো ? আমাদের বুঝতে হবে , যে কোন সমস্যা সমাধান বা চুক্তি বাস্তবায়ন খুব কঠিন , পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে আজ কতো বছর হলো কিন্তু এখনো সব কিছু বাস্তবায়ন হয় নাই চলমান রয়েছে ,

পৃথিবীতে এই রূপ কত চুক্তি বাস্তবায়ন হয় নাই, এইটা তো একটি জায়গা নিয়ে সমস্যা আমরা ধৈর্য ধরে মৈত্রীদিয়ে সব কিছু জয় করতে পারি ।শক্তিপ্রয়োগ তো বুদ্ধের ধর্ম নয় , মৈত্রী দিয়েই তো জয় করা সম্ভব , আমাদের বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দ সেই মৈত্রীপথে অগ্রসর হয়েছেন, তাদের নিন্দা না করে ,তাদের সময় দিতে পারতেন , কারণ তারা ( যারা সমাজের কাজ করে )

আমাদের সম্পদ তাদেরকে অপমাণিত করা মানে নিজেরাই অপমানিত হওয়া । আমাদের সকল আপদবিপদে তারাই ( সমাজ কর্মী) তো এগিয়ে আসে ।
হে আমার বড়ুয়াজাতি, চিন্তা করুন আমরা কি আর একজন কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ভদন্ত বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো , বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার নন্দিত ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ বুড্ডিষ্ট ফেডারেশনের মহাসচিব ভদন্ত ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের ,

প্রাক্তন মন্ত্রী কমরেড দীলিপ বড়ুয়া ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য প্রফেসর ডা: কনক কান্তি বড়ুয়া , রাষ্টপতির সচিব মি: সম্পদ বড়ুয়া , প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সরকারী ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া ,

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা: উত্তম কুমার বড়ুয়া, প্রমূখ জাতি সমাজ ধর্মের কল্যাণে নিবেদিত এই মানুষের গুলোর পর তাদের শূণ্যস্হান পূরণ করার মতো মানুষ কি আমাদের আর সৃষ্ট হবে ???

আর যদি হয় সৃষ্ট কতো সময় লাগবে ? ।ভালমন্দে মানুষ, তাদেরও ভালো মন্দ থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের উচিত তাদের ভালোদিক গুলো তুলে ধরে মন্দগুলো নিজের মধ্যমে ঠিক করে নেওয়া ।

জাতির পিতা বঙ্গঁবন্ধু একদিন তাহার বন্ধু বিখ্যাত কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী কে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন “ বন্ধু আমি তো ফেরেস্তা নয় আমারও তো ভুল হতে পারে “। বৌদ্ধ দর্শনমতে কোন ব্যক্তি অহৎ ( লোভ , দ্বেষ, মোহ শূণ্য হওয়া ) না হওয়া পর্ষন্ত মানুষের ভুল হয় ।

সুতরাং যাঁরা সমাজ জাতির জন্য কাজ করে তাদের তো ভুল হবে , তাই বলে যদি প্রতিনিয়ত তাদের নিন্দা করি দোষ খুঁজি ,দেখবেন সমাজ জাতির কল্যাণে নিবেদিত মানুষ খুঁজে পাবেন না ।

অচিরেই জাতিসত্ব বিলিন হয়ে যাবে ।মনে রাখতে হবে নেতাহীন জাতি কোনটি ঠিকে থাকতে পারে না , জাতির মুক্তি হয় যোগ্যনেতার নেতৃত্বের মাধ্যমে , আর নেতা তৈরী করে জনগণের মাধ্যমে ।

বড়ুয়া জাতির দুর্ভাগ্য আমরা কারো নেতৃত্ব মানতে চাই না, তাই প্রায় ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হই, নিজেও করি না অপরে করলেও মানতে চাই না । এই ভাবে সমাজ জাতি রক্ষা পাবে না , সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে , কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না , নিজেরা নিজেরা দ্বন্ধ করলে শক্তিক্ষয় হবে , নিজের শক্তি আপনজনের ক্ষতির জন্য ব্যবহার করা আমাদের অজ্ঞতা ।

সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে, নিন্দা করে নয় ,ভালোবাসার মৈত্রীর বন্ধন নিয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। আমার লেখাটা ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে হেয় করার জন্য নয়। সমাজের নিবেদিত মানুষগুলো যাতে জাতির কল্যাণে বিমুখ না হয় তজ্জন্য আমাদের করণীয় সম্পর্কে বিচিন্তা কথা গুলো লিখলাম ।

ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া সহ জাতির কল্যাণে নিবেদিতদের প্রতি আহবান করবো আপনারা আমাদের সম্পদ, শতবাক্যবানে জর্জরিত হলেও এই জাতিকে রক্ষায় সব সময় আপনাদের এগিয়ে আস্তে হবে , যারা বুঝে না তাদের বুঝাতে হবে , কাউকে ত্যাগ করা যাবে না ,

আমরা তো আপনাদেরই লোক , হয়তো বেশী ভালোবাসি বলেই বেশী আঘাত করি।
পুণ্যদান করি সমাজ জাতির নির্মাণে নিবেদিত সকলেই দীর্ঘায়ু লাভ করুক, ফলাহারিয়ার সমস্যাও সমাধান হোক।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here