পরপারে চলে গেলেন সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়া

0
271

একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগীত সাধক,উপ মহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ,”সংগীত সুধাকর” উপাধি প্রাপ্ত ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই।

প্রথিতযশা এই গুণী সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়া আজ দুপুর ১২.৩০ টায় চট্টগ্রাম শহরস্থ বাসায় ৯০ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে পরলোক গমন করেন।

১৯৩১ সালে চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলাস্হ মধ্যম জোয়ারা গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে এই সংগীত শিল্পী জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা রাজেন্দ্র লাল বড়ুয়া মাতা অপূর্বময়ী বড়ুয়া।ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়ার
প্রথম শিক্ষাগুরু হরিদাস গাঙ্গুলী(সংগীত প্রভাকর)।

উভয় শিক্ষাগুরুর কাছে তিনি মোট ১৯ বৎসর রাগ সংগীতে তালিম গ্রহণ করেন।ভারতে অবস্হানকালীন সময়ে তিনি মধ্য কোলকাতা সংগীত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে নিজের অবস্হানকে সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সংগীতের এই বিশাল ভান্ডারকে পূঁজি করে ১৯৬৮ সালের শেষভাগে স্বদেশে ফিরে আসেন।১৯৭০ সাল থেকে তিনি চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে আসছেন।

তিনি চট্টগ্রাম বেতারের একজন উচ্চতর ‘ক’ শ্রেণীর সাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী।তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনেরও নিয়মিত শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী।

সংগীত সাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ওস্তাদ গুল মোহাম্মদ স্মৃতি পুরস্কার,বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি যুব কর্তৃক সম্মাননা,বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ কর্তৃক সম্মাননা,বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সম্মাননাসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন।

ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়া পটিয়াস্হ ঝংকার সংগীত বিদ্যালয়,নালান্দা সংগীত বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম নজরুল একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন।নতুন রাগ “সুধাকেলী” সৃষ্টি ছিলো ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়ার অনন্য অবদান।

ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়ার শিষ্য-প্রশিষ্যরা আজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগীত ভূবনকে আলোকিত করছেন।তিনি ৩ পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়া আমাদের গর্ব,আমাদের অহংকার।

সংগীত ভূবনে তাঁর অসামান্য অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ওস্তাদ মনোরঞ্জন বড়ুয়ার মরদেহ নন্দনকাননস্হ চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে রাখা হয়েছে।

আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার বিকাল ২ টায় তাঁর অনিত্যসভা চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হবে।
লেখক :
স্বপন কুমার বড়ুয়া, সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি-যুব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here